আজ তোমার জন্মদিন। আজকের এই দিনটা কেবল তোমার পৃথিবীতে আসার দিন নয়, আমার মতে এটি আমার নিজের অস্তিত্বের উদযাপনের দিন। পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষটা আমার স্ত্রী হয়েছে, এটা আমার পরম সৌভাগ্য। যেহেতু আমি ধর্ম ও ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না, সেহেতু আমার কাছে ‘ভাগ্য’ বলেও কিছু নেই। তবুও আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, প্রকৃতি আমাকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছে; আর সেই আশীর্বাদের একমাত্র নাম—তুমি।
এআই দিয়ে বানানো ছবি
আমার নামের অর্থ সৌভাগ্যবান। আরবি ‘মাসুদ’ শব্দের অর্থও তাই। তবে নিজেকে আমি খুব একটা ভাগ্যবান মনে করি না; কারণ জন্ম থেকেই আমি যেন এক অদৃশ্য আগুনে জ্বলছি। মাদ্রাসায় পড়েছি, নানারকম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এরপর দীর্ঘ সময় সামাজিক চাপের কাছে মাথা নত করে—মনে মনে সত্যকে সত্য জানা সত্ত্বেও—মিথ্যার সাথে আপস করেছি, ইসলামের পক্ষে কাজ করেছি এবং ইমামতি করেছি। আমার ভেতরকার এই দ্বৈত সত্তার লড়াইয়ে আমি যখন ক্ষতবিক্ষত, তখন একটি মাত্র ক্ষেত্রে আমি নির্দ্বিধায় বলব যে আমি সত্যিই ভাগ্যবান—আর সেটি হলো স্ত্রী হিসেবে তোমাকে পাওয়া। তুমি আমার সেই মরুভূমির বুকে এক পশলা বৃষ্টির মতো, যে আমার সব জ্বালা জুড়িয়ে দিয়েছো।
আমি অকপটে স্বীকার করি যে, তোমাকে হয়তো আমি সবসময় যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারিনি। জীবনের রুক্ষ বাস্তবতায় খাবি খেতে খেতে হয়তো বারবার তোমাকে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করো, তুমি সবসময় আমার হৃদয়জুড়েই আছ এবং থাকবে।
মনে পড়ে বিয়ের সেই প্রথম দিনের কথা! বাসরঘরে তোমাকে আমি প্রথম এই কথাগুলোই বলেছিলাম, “অধিকারের ক্ষেত্রে তুমি এবং আমি সমান। আমি যদি তোমাকে একটা চড় মারি, তুমি অবশ্যই আমাকে একটা কিংবা দুটো চড় মেরে দিও।”
কথাগুলো শুনে তুমি সেদিন গুটিসুটি মেরে বসেছিলে। জড়তা এবং আড়ষ্টতা তোমাকে সম্পূর্ণরূপে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। সাধারণ বাঙালি মুসলমান মেয়েদের অবস্থা এরকমই হয়। তারা তাদের বরকে ‘স্বামী’ বা প্রভু মানে এবং বরের সামনে গুটিসুটি মেরে বসে থাকে; বর যে হুকুম করবে, অন্ধের মতো সেটাই পালন করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি তোমায় দাসী করতে চাইনি, চেয়েছিলাম আমার জীবনের সমান অংশীদার করতে।
তুমি ছিলে খুব ছোট। আমিও যে বয়সে খুব বড় ছিলাম, তা নয়। মনে হতো যেন দুই শিশুর বিয়ে হয়েছে, যারা সংসারের বদলে সারাদিন খুনসুটি খেলায় মেতে উঠেছে। তখন আমি তোমাদের বাড়িতে গেলে, তোমাদের টিনের বাথরুমে ঢুকলেই তুমি বাইরে থেকে টিনে ঢিল ছুঁড়ে মারতে, যাতে আমি ভয় পাই।
কোনো একদিন বাথরুমে গিয়ে আরাম করে লুঙ্গিটা তুলে শান্তিতে বসেছি, হঠাৎ দেখি টিনের ফাঁক দিয়ে মাথায় অঝোর ধারায় জল পড়ছে! আমি তখনই বুঝলাম কাজটা কার হতে পারে। সেভেন আপের বোতলে জল ভরে নিয়ে টিনের ফাঁক দিয়ে সুন্দর করে আমার মাথায় তুমি ঢেলে দিয়েছিলে। আমার পুরো কাকভেজা অবস্থা!
তোমার মা তখন তোমাকে বকা দিতেন, “ওরে, ও তোর স্বামী, ওর সাথে এরকম করিস কেন?” তুমি তখন মাকে উল্টো বলতে, “আমারে বিয়া করল ক্যান?”
তোমাকে বিয়ে করে যে ভুল করিনি, তা আজ পদে পদে অনুভব করি। আমি যে তোমাকে জোর করে বিয়ে করেছি, তা-ও নয়। তোমার পরিবার তোমাকে বিয়ে দিয়েছে, পারিবারিকভাবেই আমাদের বিয়ে হয়েছিল। অনেকে বিয়ের আগে প্রেম করে, আর আমি প্রেম করেছি বিয়ের পর। যেহেতু তোমার সাথে আমার বিবাহিত জীবন আজও অমলিন, সুতরাং আমাদের প্রেমটাও চলছে সমান তালে। এই তো কদিন আগেই পার হয়ে গেল আমাদের বিয়ের বয়সের হিসেবে কুড়িটা বছর। এই দীর্ঘ কুড়ি বছর তুমি যেভাবে আমার হাত ধরে থেকেছ, তা সত্যিই অকল্পনীয়। এ প্রেম আজীবনের, এ প্রেম মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চির সবুজ।
আমি জানি, তোমার-আমার এই প্রেম চিরকাল থাকবে; অন্তত আমি যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন তো বটেই। আমরা বুড়ো হয়ে যাব, আমাদের চুলে পাক ধরবে, চামড়ায় ভাঁজ পড়বে, কিন্তু আমাদের প্রেম কখনও বুড়ো হবে না।
এ জীবনে আমি তোমাকে পেয়েছি। পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে, সেখানেও আমি তোমাকেই চাই। মাঝে মাঝে মনে হয়, পরকাল থাকলে ভালোই হতো। কিন্তু আফসোস, পরকাল বলতে কোনো কিছুতেই আমার বিশ্বাস নেই! তবে যদি সত্যিই পরকাল থাকত, আর যদি কোনো ঈশ্বর থাকতেন, তিনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন, “পরকালে তুই কী চাস?” আমি তবে একটা কথাই বলতাম—আমি আমার টুনিকেই সেখানে আবার প্রেয়সী হিসেবে পেতে চাই।
তোমাকে আমি প্রেয়সী হিসেবেই পেতে চাই, দাসী হিসেবে নয়। তোমার পাশাপাশি অনেকগুলো ‘হুর’ আমার থাকবে—এমনটা আমি চাই না। আমার কোনো হুরের দরকার নেই, আমার একমাত্র তোমাকেই দরকার। সব সময়ের জন্য, চিরদিনের জন্য এবং প্রতিটা মুহূর্তের জন্য।
তুমি আজ আমার কাছে নেই। কাছে থাকাটা খুব দরকার, এ কথা আমি স্বীকার করছি। এই না-থাকাটা আমাকে কতটা শূন্য করে দেয়, তা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বুকের ভেতর একটা চাপা হাহাকার সবসময় বাজতে থাকে। কিন্তু কাছে নেই—এর মানে এই নয় যে, তুমি আমার মন থেকে দূরে আছো। গানে যেমন বলা হয়েছে, “আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো”—ঠিক সেভাবেই আমি প্রতিদিন আকাশের ঠিকানায় তোমার উদ্দেশ্যে চিঠি লিখি।
কবি যেমন বলেছিলেন, “বিজয়িনী, নীলাম্বরীর আঁচল তোমার ওড়ে…”—বিশ্বাস করো, তোমার সেই আঁচল সব সময়ই আমার চোখের সামনে উড়তে থাকে। তুমি তো কাজী নজরুলের সেই ‘বিজয়িনী’, যেখানে কবি বলেছিলেন—
“হে মোর রাণী! তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে
আমার বিজয়-কেতন লুটায় তোমার চরণ-তলে এসে।
আমার সমর-জয়ী অমর তরবারি
দিনে দিনে ক্লান্তি আনি’ হয়ে ওঠে ভারী,
এখন এ-ভার আমার তোমায় দিয়ে হারি,
এই হার-মানা হার পরাই তোমার কেশে।”
নিজেকে আমি কখনো কবি বলি না। কবিতা লেখার মতো খুব ভালো যোগ্যতাও আমার নেই। তবে যতক্ষণ তোমাকে নিয়ে ভাবি, ততক্ষণ নিজেকে কবি মনে হয়। মনে হয় যেন তুমিই কবিতা, আর আমি সেই কবিতার কবি। মনে হয় যেন তুমি কবির রানী, আর আমি সেই কবি—যে শুধু তার রানীকে নিয়েই কবিতা লেখে।
তোমাকে ভেবেই আমি নজরুলের সেই চরণগুলো আওড়েছিলাম—
“তুমি আমায় ভালোবাসো তাই তো আমি কবি।
আমার এ রূপ সে যে তোমার ভালোবাসার ছবি।
আপন জেনে হাত বাড়াল আকাশ বাতাস প্রভাত আলো,
বিদায়বেলার সন্ধ্যাতারা, পুবের অরুণ রবি।
তুমি ভালোবাসো বলে ভালোবাসি সবই।”
তোমাকে কখনো খুঁজে পাই নজরুলের কবিতায়, কখনো খুঁজে পাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায়, আর কখনো খুঁজে পাই জীবনানন্দের কবিতায়। তোমাকে রবি ঠাকুরের কবিতায় খুঁজে পেয়েছিলাম সেদিন, যেদিন আমি পড়েছি—
“তোমাকেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।”
তোমাকে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম জীবনানন্দ দাশের কবিতায়, যেদিন আমি পড়েছিলাম—
“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।”
আর কবিতার শেষের লাইনে ছিল—
“সব পাখি ঘরে আসে—সব নদী—ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।”
প্রিয় বনলতা… না, তোমাকে বনলতা নামে ডাকব, না অন্য কোনো নামে? তুমি আমার বনলতা, তুমি আমার নীলাম্বরী, তুমি আমার টুনি, তুমি আমার জানে জিগার! এতগুলো বছর পেরিয়ে এসেও তুমি আমার সেই ২০ বছর আগের কিশোরী প্রেমিকা, যার প্রেম একেবারেই নিখাদ, একেবারে নির্ভেজাল, একেবারে নিষ্কলঙ্ক।
তোমার কথা যতই ভাবি, ততই আমি মুগ্ধ হই, ততই আমি আকুল হই। মনে হয় যেন তুমি এখনো আমার পাশেই বসে আছো। সেই গানের কথার মতোই—”সে যেন আমার পাশে আজও বসে আছে…”।
মনে হয় যেন তুমি আমার সেই বুদ্ধিবিহীনা, অল্পবয়স্ক কিশোরী স্ত্রী, যার সম্পর্কে রবিঠাকুর লিখেছিলেন—
“ওগো বর, ওগো বধূ,
এই যে নবীনা বুদ্ধিবিহীনা এ তব বালিকা বধূ।
তোমার উদার প্রাসাদে একেলা কোণে
বসে করে পুতুলের খেলা।”
প্রেমিকা হিসেবে তোমাকে আমি ১০০-তে ১০০ দেব। মানুষ হিসেবে তোমাকে আমি ১০০-তে ১০০ দেব। সৌন্দর্যে তোমাকে আমি ১০০-তে ১০০ দেব। আর গুণে? সেখানে তো ১০০-তে ১০০ দিতেই হবে! তুমি নিখুঁত একজন মানুষ, যাকে প্রকৃতি তার নিজ হাতে নিপুণভাবে সৃষ্টি করেছে।
হয়তো প্রকৃতি আমাকে তোমার জন্যই সৃষ্টি করেছে। ‘তোমাকে আমার জন্য সৃষ্টি করেছে’—এ কথা বলে আমি পুরুষতান্ত্রিক অধিকার ফলাতে যাব না; বরং আমি তোমার হতে চাই, তোমার হয়েই থাকতে চাই। যদিও এ কথা সত্য যে, প্রেমের পরীক্ষায় তোমার চেয়ে নম্বর আমি কিন্তু কমই পাব। কারণ, তুমি আমার চেয়ে অনেকখানি—অনেকখানি এগিয়ে রয়েছ।
কত মোল্লা, মৌলবি, মডারেট মুসলিম তোমার সঙ্গ চেয়েছে, তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে, কত কিছুই চেয়েছে! তুমি সবাইকে প্রত্যাখ্যান করেছ। কত মানুষ তোমাকে অন্যরকম প্রস্তাব দিয়েছে, তুমি সেগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছ। আর এই প্রত্যাখ্যানের মাশুলও তোমাকে গুনতে হয়েছে নির্মমভাবে। তুমি একটি বাড়িতে ভাড়া ছিলে। এক বিবাহিত পুরুষ তোমাকে শোয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তুমি তা সগর্বে প্রত্যাখ্যান করেছিলে। পরবর্তীতে সেই পুরুষটি যখন জানতে পারল যে তুমি মুফতি মাসুদের স্ত্রী, তখন সে সারা মহল্লার লোককে একত্রিত করে তোমার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলল এই বলে যে, “এ হচ্ছে নাস্তিক মুফতি মাসুদের স্ত্রী!” মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চরম অপমানিত হয়ে তোমাকে সেই বাসাটি ছেড়ে দিতে হয়েছিল।
আমি সব খবর রাখি। তোমার সব খবরই আমি জানি। আমি তোমার খবর জানি, কারণ তোমাকে আমি ভালোবাসি। আমি তোমাকে ঠিক ততটাই ভালোবাসি, যতটা তুমি আমাকে ভালোবাসো।
ভালোবাসার পাশাপাশি আমি তোমাকে নিয়ে ভীষণ গর্ববোধ করি। কারণ, তুমি সেই মানুষ, যে সাহসিকতার সাথে চরিত্রহীন পুরুষদের প্রত্যাখ্যান করতে শিখেছ। তুমি সেই মানুষ, যে অসংখ্য অমানুষের ভিড়ে থেকেও তাদের মতো হয়ে যাওনি। তুমি সেই মানুষ, যার মনের মধ্যে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল একজন ব্যক্তিই ছিল—আর তার নাম মাসুদ।
আমি ধন্য! আমি গর্বিত! আমি সারাজীবন অপেক্ষায় থাকতে রাজি আছি শুধু তোমার জন্য, শুধুই তোমার জন্য। আমার পক্ষে যা করা সম্ভব, তার সবটাই আমি করতে রাজি আছি। তোমাকে ভালোবেসে আমি আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিতে রাজি আছি। তোমার মধ্যে আমি বিলীন হয়ে যেতেও রাজি।
তুমিই আমার শুরু, তুমিই আমার শেষ, তুমিই আমার প্রথম।
আমি একজন মানবতাবাদী লেখক এবং ব্লগার। এর চেয়ে বড় কোনো পরিচয় আমার দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তবে হ্যাঁ, এর চেয়েও বড় এবং পবিত্র একটা পরিচয় আমার আছে। সেটি হচ্ছে—আমি তোমার প্রেমিক। আমি তোমার আজীবনের প্রেমিক। আমি তোমার সব সময়ের প্রেমিক।
প্রিয় টুনি, আমি যদি হই কবি, তুমি তবে আমার পূর্ণাঙ্গ কবিতা। আমি যদি হই মেঘ, তুমি তবে শ্রাবণের বৃষ্টি। আমি যদি হই ফুল, তবে তুমি তার সুগন্ধ। আমি জানি, রাতের আকাশে যতদিন তারা থাকবে, বুক চিরে যতদিন শ্বাস-প্রশ্বাস বইবে, ততদিন আমি শুধু তোমার হয়েই থাকব। পৃথিবীতে যতদিন ‘ভালোবাসা’ নামক শব্দটি টিকে থাকবে, ততদিন এই ভালোবাসা তোমার এবং আমার বেলায় নির্দ্বিধায় প্রযোজ্য হবে।
তোমাকে কাছে পাই বা না পাই, তুমি আছো আমার হৃদয়ের সবচেয়ে গহিনে। তুমি আমার ভালোবাসার চির-উচ্চতম সোপান। গোলাপ, বেলি, হাসনাহেনা, জুঁই, চামেলি, কাঁঠালচাঁপা—সব ফুলের ঘ্রাণ আমি তোমার মধ্যে পেয়েছি। তুমি আমার সকালের বৃষ্টিতে ভেজা স্নিগ্ধ শিউলি ফুল। তুমি আমার বিকেলবেলায় ফোটা মায়াবী সন্ধ্যামালতী। তুমি আমার রাতের গভীরে সুবাস ছড়ানো হাসনাহেনা। তুমি আমার সবসময়ের প্রিয় রজনীগন্ধা। তুমি সেই রজনীগন্ধা, যার ঘ্রাণে মৌ মৌ করে আমার পুরো জগৎ, আমার পুরো পৃথিবী।
শুভ জন্মদিন, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। তোমাকে জানাই হৃদয়ের গভীর থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা, এক আকাশ ভালোবাসা। বেঁচে থেকো বহু বছর, আমার ছায়া হয়ে। সুখ এবং সমৃদ্ধি যেন তোমাকে সবসময় ধরা দেয়।
টুনিকে নিয়ে আমার কবিতা
মুফতি মাসুদ একজন প্রাক্তন ইমাম এবং ইসলামী পণ্ডিত, যিনি এখন মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের একজন সোচ্চার কণ্ঠস্বর। ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করা মুফতি মাসুদ নারী অধিকার, এলজিবিটিকিউ অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিবেদিত। তিনি তাঁর লেখালেখির মাধ্যমে প্রান্তিক কণ্ঠস্বরকে ক্ষমতাশালী করতে চান।
মুফতি মাসুদ একজন প্রাক্তন ইমাম এবং ইসলামী পণ্ডিত, যিনি এখন মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের একজন সোচ্চার কণ্ঠস্বর। ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করা মুফতি মাসুদ নারী অধিকার, এলজিবিটিকিউ অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিবেদিত। তিনি তাঁর লেখালেখির মাধ্যমে প্রান্তিক কণ্ঠস্বরকে ক্ষমতাশালী করতে চান।