Mufti Masud
ইসলামের নবী মোহাম্মাদের মক্কার জীবন কেমন ছিল জানতে চান? দেখুন বাংলাদেশের সরকারবিরোধী দলগুলিকে।
মোহাম্মাদের মদিনার জীবন কেমন ছিল জানতে চান? দেখুন বাংলাদেশের সরকারি দলকে।
প্রতিটি রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় গেলে মাদানী হয়ে যায়, আর ক্ষমতা হারালে মাক্কী হয়ে রয়। মক্কার মোহাম্মদ বারো বছর ধরে একটি মদিনা খুঁজেছেন, ঠিক যেমন বারো বছর ধরে বাংলাদেশের সরকারবিরোধী দলগুলি ক্ষমতা খুঁজছে। মদিনার মোহাম্মদ দশ বছর ধরে তাই-ই করেছেন যা করছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলটি।
মক্কায় থাকলে সবাই গরিবের কথা বলে, যেমনটি মাঝেসাঝে বলতেন
মক্কার মোহাম্মদ। মদিনায় থাকলে সবাই অনুভূতির কথা বলে, যেমনটি
সবসময় বলতেন মোহাম্মদ। অনুভূতি আহত করলে ক্ষমতাসীনেরা তাই করে যা করতেন মোহাম্মদ। তবে তিনি ছিলেন আরেকটু কড়া। তিনি বাংলাদেশের শাসক দলের মত প্রহসনের বিচার করে কারাগারে পাঠাতেন না, বরং ডাইরেক্ট ঘাতক পাঠিয়ে অন দ্যা স্পট সানডে-মানডে ক্লোজ করে দিতেন। মদিনার শাসক মোহাম্মদের অনেক সহমত ভাই ছিলেন যেমনটি আমরা এখন ‘সহমত লীগ’ ভাইদের দেখতে পাই। শাসক মোহাম্মদের বিশেষ বাহিনী আলি লীগ, ওমর লীগ ও আবুবকর লীগ ছিল যার সাযুজ্য আমরা খুঁজে পাই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও বুইড়া লীগে।
মদিনার শাসক মোহাম্মদ যখন পুত্রবধূকে নেকা করলেন, তাঁর অন্যান্য বৌয়েরা বিদ্রোহ করতে চাইল তখন মদিনার মোনাফেকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। যেহেতু নবীর সমালোচনা মানেই ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা সেহেতু ষড়যন্ত্রকারীদের ‘অভিশপ্ত’ আখ্যা দিয়ে তিনি তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই ‘কতল’ করার ফরমান জারি করলেন। ঠিক যেমন বাংলাদেশের মাদানী দল তথা ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা – যারা করে তাঁরা মোনাফেক – সুতরাং ওদের পুলিশ দিয়ে ধরার ফরমান তিনি দিতেই পারেন!
তৎকালীন মাদানী দলের প্রধান মোহাম্মদ যেমন নিজের একার হাতে সব সামলাতেন বর্তমান মাদানী দলের প্রধানও তেমনি একহাতে সবকিছু সামলান। মোহাম্মদের অনুসারীরা যেমন আল্লাহু ওয়া রাসুলুহু আ’লামু (আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন) বলত বর্তমান মাদানী দলের অনুসারীরাও তেমনই “নেত্রীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত” বলে।
তৎকালীন মক্কাবাসী বিভিন্ন গোত্রকে সাথে নিয়ে আহজাবের যুদ্ধ বা ঘেরাও অভিযান চালিয়ে যেমন ব্যর্থ হয়েছিল বর্তমান মক্কী দলটিও তেমনি বিভিন্ন হুজুরদের একত্র করে শাপলা চত্তর ঘটিয়ে বিফল হয়েছে।
তবুও পার্থক্য আছে – সেই মদিনা আর এই মদিনায় পার্থক্য আছে। তখন জাতিসংঘ ছিল না, এখন আছে। তবে তখন যেমন রোম-পারস্য ছিল এখনও তেমনি আমেরিকা-রাশিয়া আছে। যখন পারস্যের বিরুদ্ধে আয়াত নাজিল হত তখন রোম হাদিয়া পাঠাত মোহাম্মদের জন্য, সেরকম একটি হাদিয়ার নাম মারিয়া আল কিবতিয়া। আবার যখন ইহুদি-নাসারাদের বিরুদ্ধে আয়াত নাজিল হত তখন খুশি হত পারস্য। অবশ্য ইহুদি-বিরোধী আয়াত নামলে রোমান সম্রাটও খুশি হতেন, ঠিক যেমন এখন নোয়াম চমস্কি এবং অরুন্ধতীর কলামে ইসরায়েল-বিরোধী আয়াত নাজিল হলে খুশি হয় পশ্চিমা খ্রিস্টানরা। অবশ্য তৎকালীন রোমান সম্রাট খুশি হতেন ধর্মের দোহাই দিয়ে, আর বর্তমান রোমানরা খুশি হয় বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে। তৎকালীন শক্তিধর রোম-পারস্য মনে করত, মদিনার মূর্খ মোহাম্মদ আমাদের কোন পশমটা ছিঁড়বে! এখনও আমেরিকা-রাশিয়া মনে করে, বিপুল সংখ্যক মূর্খ মুমিনরা আমাদের কি করবে?
ইতিহাসের গতিপথ সবসময় একই রকম থাকে। খিলাড়িরা সবসময় একই রকম খেলে। আমরা কেবল যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে ঘুরপাক খেতে থাকি। হাজার বছর ধরে একই খেলা চলছে। একই খেলোয়াড়েরা বংশানুক্রমে খেলছে। মাঝেমাঝে ওরা জার্সি বদল করছে বলে আপনি মনে করছেন, খেলোয়াড় বুঝি বদলেছে, খেলা বোধহয় পাল্টেছে!
আপনি যার বিরুদ্ধে লড়ছেন তিনিই আপনার খেলারাম – আপনি তাঁর হয়েই খেলছেন। আপনি যার পক্ষে খেলছেন তিনিও আপনার খেলারাম। ওরা A টিম এবং B তৈরি করে আপনাদের দুই ভাইকে দুই দলে ভাগ করে খেলাচ্ছে, আপনারাও খেলছেন। দিনের আলো নিভে এলে দুই খেলারাম নিশ্চিন্তে সুরা পান করে। দুই খেলারামের মাঝখানে লিয়াজো হিসেবে কাজ করছে আপনারই বন্ধু কমল। আবার আপনার ঘোরতর শত্রুরও কিন্তু অন্তরাত্মার বন্ধু ওই কমল! দুজন খেলারাম, আপনারা দুই ঘোরতর শত্রু, আপনাদের উভয়েরই কমন ফ্রেন্ড কমল – খেলাটা কি চমৎকার না?
এবার বলুন, সব দোষ কি এককভাবে মোহাম্মদের? সব দোষ কি বাংলাদেশের মক্কী বা মাদানী দলের? সব দোষ কি আপনার একার? সব দোষ কি আপনার সেই পরম পূজনীয় ব্যক্তির যার কোন সমালোচনা করলেই মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়ে যায়? সব দোষ কি বড় হুজুরের সেই মুরিদের যাকে আপনি “ছাগু” বলেন? আপনি নাস্তিক আব্দুল্লাহ আল মাসুদের পুজা করলে যদি দোষ না হয় তবে মামুনুলের রূহানী পুত্রের কেন দোষ? নাস্তিকতার জন্য আপনার বড় হুজুরের অবদান যদি সবচে বেশি হয় তাহলে ইসলামের জন্য রুহানী ছেলের বড় হুজুরের অবদান কেন সবচে বেশি নয়? আপনি যদি নাস্তিক হুজুরকে তেলের পেয়ালায় চুবাতে থাকেন তাহলে কেন মুমিন তাঁর নবীজিকে তেলে চুবাবে না? কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদের সাগরে ডুবানো হবে না?
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া আমার পুরানা অভ্যাস