Mufti Masud

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে বহু চর্চিত ও আলোচিত শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে দেওবন্দী শিক্ষা ব্যবস্থা বা দরসে নেজামী। ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার সিলেবাস অনুকরণে তৈরি এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানসমূহ ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় কওমি মাদ্রাসা নামে পরিচিত। কওমি মাদ্রাসায় ভয়ংকর সব ঘৃণার শিক্ষা দেয়া হয়। ঘৃণা করাকে পুণ্য হিসেবে সেখানে দেখানো হয়। কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে থাকা সেসব ঘৃণার শিক্ষার দু’চারটে নমুনা কেবল দিচ্ছিঃ দেওবন্দ ও তার অনুকরণে তৈরি করা কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তক আল হিদায়াহ‘র কিতাবুস সিয়ার বা জিহাদ অধ্যায়ে লেখা রয়েছে, ‘অমুলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইসলামের নির্দেশ। অমুসলিমরা যুদ্ধ শুরু না করলেও মুসলমানদের অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।’ অমুসলিম যুদ্ধবন্দি মেয়েদেরকে ধর্ষণ করাকে জায়েজ বা বৈধ কাজ বলে মাদ্রাসায় শিক্ষাদান করা হয়। অমুসলিমরা পশুর চেয়েও অধম, তাঁরা অপবিত্র, তাদেরকে বিয়ে করা বৈধ নয়, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা পুণ্যের কাজ, তাদের যুদ্ধবন্দিদের দাসদাসী বানাতে হবে – কোরআন ও হাদিস থেকে এমন ধরনের হাজারো বর্বর বিধান তথা শরিয়া আইন আমি কওমি মাদ্রাসায় পড়ার সময় পাঠ্যপুস্তক থেকেই শিখেছি। মাদ্রাসায় জিহাদের শিক্ষা গ্রহণ করলেও এ শিক্ষার বাস্তবায়ন করা তথা জিহাদ করতে বাধাদান করা হয় মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। এটি বাংলাদেশে যেমন হয়, তেমনি পাকিস্তানে এবং ভারতে। অর্থাৎ মাদ্রাসা থেকে পাশ করে বেরিয়ে একজন হুজুর যখন তাঁর মাদ্রাসা-শিক্ষার প্রাক্টিক্যাল প্রয়োগ করতে যায় তখনই দেশের প্রচলিত আইনে তাঁকে বাধা দেয়া হয়; প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হয়! যারা মাদ্রাসায় প্রাপ্ত শিক্ষার অনুকরণে জিহাদ করতে যায় বা জিহাদের মাধ্যমে ইসলামী হুকুমত (শাসনতন্ত্র) প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে তাদেরকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশেই জঙ্গি বলে আখ্যা দেয়া হয়। আর এ কারণেই মাদ্রাসা পড়ুয়া হুজুররা হয়ে ওঠে আধুনিক সভ্য পৃথিবীর প্রতি বিক্ষুব্ধ, কারণ সারাজীবন অক্লান্ত কষ্ট করে, মাদ্রাসার কারাগারে বন্দি থেকে, অপুষ্ট থেকে, পড়াশোনা করে অর্জন করা বিদ্যা ‘জিহাদ’ তাদের এখন করতে দেয়া হচ্ছে না। যদিওবা করতে দেয়া হয় তাও বহু লুকোছাপা করে, বহু ছলচাতুরি করে। আবার এই হুজুরদেরকে জিহাদ-বিরোধীও হতে দেয়া হয় না। কোন হুজুর কেবল জিহাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই তিনি চাকরি, প্রাণ, মান সবই হারাবেন। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাদ্রাসা, মসজিদ ও ইসলামী প্রতিষ্ঠান সমূহের পরিচালক হচ্ছে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা, আর তাদের সহযোগী শক্তি হচ্ছে মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা। হুজুররা মাদ্রাসায় প্রাপ্ত জিহাদের বিদ্যার প্রয়োগ করতে চাইলে রাজনৈতিক নেতারা হুজুরদের বলেন, “এখন দুনিয়ার ক্ষমতা কাফেরদের হাতে, আপনাদের জিহাদ করতে দিলেই কাফেররা তাদের বিপুল সমরশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে আমাদের উপর, তাই আপাতত ধৈর্য্য ধারণ করুন”। এভাবেই একদিকে জিহাদে আগ্রহী গোষ্ঠী (হুজুররা) যেমন তৈরি হচ্ছে পাশাপাশি জিহাদ করতে না পেরে আত্মদহনে ভুগে রাজনৈতিক নেতাদের তাবেদার একদল গোষ্ঠীও (ঐ হুজুররাই) তৈরি হচ্ছে।