Mufti Masud
একটি গল্প দিয়ে শুরু করা যাক : একজন লোক তার বাড়িতে একটি কুয়ো খনন করলো। সে কুয়ো থেকে তার খাবার পানি, গোসলের পানি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পানীয় প্রয়োজন মেটাতে লাগলো। লোকটার বাড়িতে একটি কাঁচা পায়খানা ছিল। সে পায়খানার লাইনটা একটি পাইপের মাধ্যমে কুয়োর মধ্যে প্রবেশ করানো ছিল। ভদ্রলোক যতবারই কুয়ো থেকে পানি তোলে প্রতিবারই পানির মধ্যে সে মলমূত্র দেখতে পায়। আর এই পানি খেয়ে পরিবারের সবাই বারবার অসুস্থ হয়। সবসময়ই পরিবারের সবার ডায়রিয়া লেগে থাকে। ডাক্তার দেখায়, ওষুধ খায় কিন্তু তাতেও ডায়রিয়া সারে না। ভদ্রলোক কুয়োর মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ফিটকিরি ইত্যাদি দিতে লাগল প্রচুর পরিমাণে; কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। একবার পেডরোলো পাম্প মেশিন দিয়ে কুয়োর সব জল সে তুলে ফেলল, এরপর মিনারেল ওয়াটার দিয়ে সে পুরো কুয়ো ভরে ফেলল। সে মনে মনে খুশি হল যে, এবার ভালো পানি আসবে বোধহয়। কিন্তু আবারও তথৈবচ, কোন পরিবর্তন নেই! কারণ তাঁর পায়খানার পাইপটা এখনও কুয়োর মধ্যেই ঢোকানো আছে! সে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিচ্ছে, কিভাবে কুয়োর জল বিশুদ্ধ করা যায়। কেউ তাকে বলছে ওর মধ্যে ব্লিচিং পাউডার দিতে, কেউ বলছে ফিটকিরি ঢালতে, কেউ বলছে পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট দিতে। সে প্রত্যেকের কথাই মানছে, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। কয়েকজন জ্ঞানী লোক তাকে বলল, আরে মিয়া তুমি কেন বোঝনা, তোমার এবং তোমার পরিবারের কাঁচা হাগুমুতু গিয়ে কুয়োয় পড়ছে? আগে পায়খানার লাইনটা সেখান থেকে সরাও। লোকটির এই পরামর্শটা পছন্দ হয়নি, সে এই একটা পরামর্শটা শুনলে বরং প্রচন্ড ক্ষেপে যায়! শুধু ক্ষেপেই যায় না, এধরনের পরামর্শ কেউ দিলে সে তেড়ে যায় তাকে মারার জন্য। সে কোনোভাবেই কুয়ো থেকে পায়খানার পাইপটা সরাতে রাজি না। মোরাল অব দ্যা স্টোরি : বাংলাদেশে নারী নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নারী নির্যাতন যে আগে ছিল না তা নয়। আজকে যতটুকু নারী নির্যাতন হচ্ছে আগে এরকমই হতো। আজ যে পরিমাণ ধর্ষণ হচ্ছে আগে সে পরিমাণেই ধর্ষণ হতো। আজ যে পরিমাণ খুন হচ্ছে আগে সেরকমই খুন হতো। সে যুগে মিডিয়ার দাপট না থাকায় সে সময়ের অনেক খবরই পাদপ্রদীপের আড়ালে চলে গেছে। একসময় বাংলাদেশে নারী প্রধানমন্ত্রী এলো। বাংলাদেশের অনেক সেক্যুলার মানুষই তখন আশায় বুক বাঁধলো – এবার বোধহয় নারী নির্যাতন বন্ধ হবে, এবার বোধহয় ধর্ষণ বন্ধ হবে। বাংলাদেশের প্রায় উনত্রিশ বছর ধরে ঘুরেফিরে দুজন নারীই প্রধানমন্ত্রীর পদ অলঙ্কৃত করছেন, অথচ এ দুজন নারী প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে নারীদের কোন মুক্তি আসেনি। কারণ এ দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী মূলত পুরুষতন্ত্রেরই প্রতিনিধি, এবং পুরুষের বিকল্প। তারা দু’জনের কেউই স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসেনি। তারা শুধুই পুরুষের বিকল্প। ভারপ্রাপ্ত নেতার মতোই তারা ‘ভারপ্রাপ্ত পুরুষ’ হয়ে দেশ চালাচ্ছে। আর তাই ভারপ্রাপ্ত পুরুষের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের যে আশা করেছিল নারীরা, সেই আশার পুরোটায়ই গুড়েবালি। আর সবচেয়ে বড় কথা, দেশের জনগণ সবাই কুয়ো থেকে বিশুদ্ধ জল চায়, পরিবারের সবার সুস্থ জীবন চায় কিন্তু তারা ধর্ম নামক পায়খানার পাইপ রাষ্ট্র থেকে পৃথক করছে না। ধর্ম নামক পায়খানার পাইপ পৃথক না করলে মলমূত্র তো দিনে দিনে বাড়তে বাড়তে পুরো কুয়োটাই ভরে ফেলবে। তাই নয় কি? এবং বাংলাদেশের কি তাইই হয়নি? দু’জন নারী প্রধানমন্ত্রীর লাগাতার শাসন এবং শোষণে দেশে নারী নির্যাতন বন্ধ না হয়ে, ধর্ষণ বন্ধ না হয়ে বেড়ে গেছে বোরকা! আগে কুয়ো (রাষ্ট্র) থেকে পায়খানার (ধর্মের) পাইপ পৃথক করুন, তারপর দেখুন রোগের নিরাময় হয় কিনা। পায়খানা (ধর্ম) পায়খানার জায়গায় (ধর্মালয়ে) থাকুক। কুয়ো (রাষ্ট্র) কুয়োর জায়গায় (ধর্মনিরপেক্ষতায়) থাকুক।