Mufti Masud
০৮ মে ২০২১, চ্যানেল আই অনলাইন নিউজ শিরোনাম হচ্ছে “পারসেভেরেন্স রোভারে মঙ্গলে নতুন শব্দ পেল নাসা”। এদিকে ৩০ শে নভেম্বর ২০২১ যমুনা টিভি চ্যানেলের নিউজ শিরোনাম হচ্ছে এরকম “পাকিস্তানে কোরান পোড়ানোর জেরে থানায় আগুন দিলো জনতা”।
একই পৃথিবী, এই পৃথিবীর একাংশের মানুষ মঙ্গলগ্রহে যানবাহন পাঠায় আর অন্য অংশের মানুষ অনুভূতিতে আঘাত লাগার কারণে আগুন দিয়ে তারা পুড়িয়ে দেয়। পারসেভেরেন্স বা পার্সিভিয়ারেন্স মঙ্গল গ্রহে পাঠানো সর্বশেষ পরিভ্রামক যান। এটি ২০২১ সালের ১৮ ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ০৩:৪৮ মিনিটে মঙ্গলগ্রহের মাটি স্পর্শ করেছে। পার্সিভিয়ারেন্স যখন মঙ্গলগ্রহের মাটি স্পর্শ করেছে সে সময়ে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ছাত্ররা ঘুম থেকে উঠে বিজ্ঞানের বই (?) কোরআন পাঠে লিপ্ত হয়েছে। এটিই তাদের প্রতিদিনকার রুটিন। বিজ্ঞানের বই কোরআন পড়ে তারা আর কিছু আবিষ্কার করতে পারুক বা না পারুক, আবিষ্কার করেছে অনুভূতি যে অনুভূতির দ্বারা নাস্তিকের কল্লা নামানো যায়, থানায় আগুন দেয়া যায়, বৃক্ষ-তরুলতা, গবাদিপশু, ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মের মানুষদের উপর ধ্বংসযজ্ঞ চালানো যায়।
১৯৬৯ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখে পৃথিবী সাক্ষী হয়েছিল আরেক ইতিহাসের – চন্দ্রজয়ের অভিযানের। অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন দলনেতা নীল আর্মস্ট্রং ও তাঁর দুজন সঙ্গী মাইকেল কলিন্স এবং বাজ অলড্রিন। জুলাই মাসের ২০ তারিখে নীল আর্মস্ট্রং এবং অলড্রিন পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের বুকে পা রাখেন। যখন এ ঘটনাটি ঘটেছে তখন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ ইসরাইল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিল। মসজিদে মসজিদে দোয়া হয়েছে, আল্লাহ তুমি ইহুদি-নাসারাদের ধ্বংস করে দাও! মাত্র দু’বছর আগে ১৯৬৭ সালে অনেকগুলি আরব দেশ বাংলাদেশের চাইতেও অনেক ছোট্ট এক দেশ ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ করে গোহারা হেরেছে। যুদ্ধে হেরে তাদের অভিশাপ বর্ষণ শুরু হয়েছে ইহুদি-নাসারাদের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিশাপ বর্ষণ শুরু হয়েছিল চৌদ্দশ বছর আগেই। আজও সেই অভিশাপ বর্ষণ চলছে মক্কা-মদিনার মসজিদে, পাকিস্তানের মসজিদে, বাংলাদেশের মসজিদে, তুরস্কের মসজিদে, ইন্দোনেশিয়ার মসজিদে, ডেনমার্কের মসজিদে, আমেরিকার মসজিদে। যাদের বিরুদ্ধে প্রার্থনা এবং অভিসম্পাত হয় তারা অত্যাধুনিক সব আবিষ্কার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। তারা মঙ্গলগ্রহে যানবাহন পাঠাচ্ছে। তারা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। তারা টেকনোলজির নিত্যনতুন অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেই চলেছে। বিজ্ঞান এভাবে এগোতেই থাকবে, এগিয়ে যাবে বিশ্ব। কোন একদিন মানুষ ছুটি কাটাতে মঙ্গলে যাবে, কেউবা রোমান্সের জন্য সুইজারল্যান্ডের বদলে মঙ্গলগ্রহ বেছে নেবে, আর ইহুদি-নাসারার পতন চেয়ে প্রার্থনা করতে থাকা মানুষগুলি প্রার্থনা করতেই থাকবে!
