আবদুল্লাহ আল মাসুদ
মানবতাবাদী মোহাম্মদ!
আমরা সকলে জানি, রাহমাতাল্লিল আলামীন ছিলেন চরম মানবতাবাদী। তার দিল ছিলো মারাত্মক কোমল ও পরিষ্কার!
আল্লাহর চাপে পড়ে তিনি এমন অনেক কাজ করেছেন যা তিনি কখনো করতে চাননি। আসুন দয়ার নবীর এমন কিছু কষ্টদায়ক কাজের কষ্টের ভাগিদার আমরাও হই –
(১) শিশুকাম : দয়ার নবী কখনো চাইছিলেন না শৈশব হতে চাচা ডেকে আসা শিশু আয়েশাকে বিছানায় নিতে, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে স্বপ্নযোগে আয়েশাকে বিয়ে করার আদেশ করার কারণে একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি আয়েশাকে নিকাহ করেন। বলা হয়ে থাকে, আয়েশাকে বিয়ের রাতে তিনি প্রচুর কেঁদেছিলেন। শিশুর সাথে সহবতের হুকুম দেয়ার কারণে আল্লাহর সাথে অভিমানও করেছিলেন! শোনা যায়, শিশুবউ আয়েশার সাথে তিনি প্রথমদিকে মুফাখখতাত (রানের চিপায় ঘষাঘষি) করতেন, পরে আল্লাহর ধমকে সঠিক জায়গায় ঈমান স্থাপন করেন!
(২) পুত্রবধূ কাম : জয়নবের সৌন্দর্য দেখে তিনি বিমোহিত হলেও তিনি কখনো চাইছিলেন না পুত্রবধূকে নিজবধূ বানাতে। আল্লাহ তাঁকে প্রথমে স্বপ্নযোগে নির্দেশ দিলে তিনি তা মানলেন না। অবশেষে আল্লাহ আয়াত নাজিল করে ধমক দিয়ে বললেন জয়নবকে বিয়ে করতে! এমনকি এ-ও জানালেন যে, নবীজির সাথে জয়নবের নেকাহ স্বয়ং আরশে মহল্লায় ফেরেশতাদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে, ফেরেশতারা মরণচাঁদের মিষ্টি দিয়ে মিষ্টিমুখও করেছে!
(৩) জেনোসাইড অব বনু কুরাইযা : বনু কুরাইযাকে হত্যা করতে কখনো তিনি চাননি, সা’দ বিন মুআযের রায়ে আল্লাহর আদেশে তাদেরকে হত্যা করতে বাধ্য হন তিনি। পিতৃহারা, স্বামীহারা, ভ্রাতৃহারা সাফিয়ার সাথে তিনি সে রাতে সহবতও করতে চাননি; কিন্তু আল্লাহ ধমক দিয়ে বললেন – “সহবত তোমার করতেই হবে, নইলে নবুওয়ত কেড়ে নেব!”
অবশেষে কাঁদতে কাঁদতে তিনি সাফিয়াকে ঘরে নিয়ে গেলেন। কান্না মোটে থামছিল না, হেঁচকি দিয়ে তিনি কাঁদছিলেন । সাফিয়া জিজ্ঞেস করলো – কি হয়েছে হে নবী? তিনি সবকিছু খুলে বললেন, আল্লাহর স্বৈরাচারী আচরণের কথাও বললেন। তাঁর দুঃখ এবং কান্না দেখে সাফিয়া নিজেই নিজের কাপড় খুলে দিলেন! নবীজি তখন কেঁদেকেঁদেই সাফিয়ার সাথে সহবত করলেন (দয়ার নবী বলে কথা!)
(৪) বনু নযীরের বিতাড়ন : বনু নযীরকে তিনি তাড়াতে চাননি, কিন্তু এখানেও আল্লাহ তার প্রিয়নবীকে চাপ প্রয়োগ করেছেন, যার প্রমাণ পাওয়া যায় সূরা হাশরে (সূরা নম্বর ৫৯)। বনু নযীর যখন তাদের বাড়িঘর, গবাদিপশু, ভূমি ফেলে চলে যাচ্ছিল আর কাঁদছিল তখন দয়ার নবী নিজেও তার চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি!
আল্লাহ তাকে ইহুদীদের দুখে কাঁদতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তবুও কেঁদেছেন, কাঁদতে কাঁদতে সংজ্ঞাহীনও হয়েছিলেন!
রাগ করে নিষ্ঠুর আল্লাহর সাথে তিনদিন কথা বলেননি দয়ার নবী।
(৫) উরাইনার হত্যাকান্ড : উরাইনা গোত্রের লোকদেরকে তিনি শুধু ফাঁসি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আল্লাহ এতে অতি ক্ষুব্ধ হলেন। আল্লাহ ফরমান জারি করলেন – তাদের হাত, পা, চোখ কেটে ফেলতে এবং মরুভূমিতে শুইয়ে পানি না দিয়ে হত্যা করতে!
আল্লাহর নির্দেশে নবী এটা করলেও তিনি তখন উরাইনার কষ্ট দেখে মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে কেঁদেছেন। চল্লিশ দিন পর্যন্ত স্ত্রী সহবাস থেকেও বিরত ছিলেন আল্লাহর সাথে রাগ করে, সে রাগ ভাঙাতে আল্লাহরও অনেক বেগ পেতে হয়েছে!
(৬) কাব, আবু রাফে, আসমা বিনতে মারওয়ান সহ বহু কবিকে হত্যা করা : “কবি-সাহিত্যিক দেশের সম্পদ, তারা আমার একটু বিরোধিতা করলে কি-ইবা আসে যায়?” এভাবে বারবার আল্লাহর সাথে আর্গুমেন্টে জড়িয়ে যান তিনি, কিন্তু আল্লাহ নাছোড়বান্দা – ওদের হত্যা করতেই হবে, ফরমান জারি করলেন! এমনকি এ হুমকিও দিলেন, “কবিদেরকে হত্যা না করলে মদিনার সবাইকে ওহুদ পাহাড় চাপা দিয়ে মেরে ফেলা হবে!”
অবশেষে হাজারো মানুষের জীবন বাঁচাতে তিনি কবি-সাহিত্যিকদেরকে হত্যা করান।
(৭) ডজনখানেক বিয়ে : এ কাজ তিনি মোটেই নিজের ইচ্ছায় করেননি, সম্পূর্ণ আল্লাহর চাপের কারণে করেছেন! আগে এক বুড়ি দিয়েই যার সাধ মিটত সে কিভাবে এতগুলো সামলায়! এটা কি খোদার কুদরত নয়?
কথিত আছে, নবীপাক একরাতে নিজ জামাতা আলির বোনের সাথে ‘মিরাজ’ করছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে ত্রিশ হর্সপাওয়ার দান করেন এবং একডজন নিকাহ করার আদেশ করেন! নবীপাক আল্লাপাককে বললেন – আয় আল্লাপাক, এত বেশি শাদি করলে তো আমার উম্মত আমাকে লুচ্চা বলবে!
আল্লাপাক ফরমাইলেন – “তুমি চিন্তা কোরোনা, তোমার উম্মতও সকলে লুচ্চা হবে, তাদের দন্ডের ভয়ে মুমিনারা সব বোরকার তলে লুকাবে!”
(৮) দাসী সহবত : দাসী সহবতে তিনি বরাবরই অনীহ ছিলেন, আল্লাহ এখানেও নাক গলালেন। নবীর স্ত্রীরাও তার এত ‘কামে’ বিরক্ত ছিলেন, তখন স্ত্রীদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আল্লাহ সূরা আহজাব ও সূরা তাহরীম নাজিল করলেন। মারিয়া কিবতিয়ার সাথে সহবতকালীন সময়ে যখন হাফসার হাতে তিনি ধরা পড়লেন তখন হাফসা দিল রামধোলাই। রামধোলাই দেয়ায় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন, হাফসাকে সতর্ক করেন, হাফসার বাবা ওমর তখন হাফসাকে শাসিয়ে যায়।

মুফতি মাসুদ একজন প্রাক্তন ইমাম এবং ইসলামী পণ্ডিত, যিনি এখন মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের একজন সোচ্চার কণ্ঠস্বর। ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করা মুফতি মাসুদ নারী অধিকার, এলজিবিটিকিউ অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিবেদিত। তিনি তাঁর লেখালেখির মাধ্যমে প্রান্তিক কণ্ঠস্বরকে ক্ষমতাশালী করতে চান।