Mufti Masud
মাদ্রাসায় ইসলামিক সঙ্গীত খুব প্রিয়তা পায়, যেহেতু ইসলামের অনুভূতি ছাড়া সেখানে কথাবার্তা, সঙ্গীত, আবৃত্তি কোনকিছুরই গ্রহণযোগ্যতা নেই। সাধারণ লোকসঙ্গীতের মধ্যে যেমন আঞ্চলিক গানের কদর আছে মাদ্রাসার ইসলামিক সঙ্গীতেও তেমনি এর কদর দেখেছি। আমাদের ক্লাসের একজনের গ্রামের বাড়ি ছিল নোয়াখালীতে। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় শেখা একটি গান পরিবেশন করে আমাদেরকে সে আমোদিত করত যে গানের প্রথম লাইন ছিল এমনঃ “বিজ্ঞানীদের মহাগুরু আংগো নবীজি”। কথায় বলে, বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়। আংগো নবীজি কেমন বিজ্ঞানী ছিলেন তা বুঝতে হলে তার জীবনী পড়ার দরকার ঠিক, কিন্তু এটি সহজে বোঝার উপায় হচ্ছে নবীর অনুসারীদের বিজ্ঞানময়তা দেখা। বাংলাদেশের শতশত “মেড ইন মাদ্রাসা” হুজুরদের হাজারো বক্তব্য ইউটিউবে পাওয়া যায় সেসবের মধ্যে অনেক বক্তব্যই থাকে বিজ্ঞান নিয়ে। হুজুরদের সেসব বিজ্ঞানময় বক্তব্য দেখলে বা শুনলে যেকোনো জ্ঞানী ব্যক্তিরই অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা হবে! বাংলাদেশে ‘এন্টারকোটিক হুজুর’ বা বিজ্ঞানী হুজুর নামে খ্যাত মুফতি কাজী ইব্রাহীম (বর্তমানে কারাবন্দি) বিভিন্ন সময়ে এতসব বিজ্ঞানের থিওরি দিয়েছেন এযাবৎকাল দুনিয়ার অন্য কোন বিজ্ঞানীর পক্ষেই তা সম্ভব হয়নি। তিনি আবিষ্কার করেছেন, পৃথিবীর মধ্যে আরো সাতটা পৃথিবী আছে। সেই সাত পৃথিবীর মধ্যে এন্টারকোটিক নামে মহাদেশ আছে যেখানে হিটলার তার ২০ লক্ষ সৈন্য সহ আত্মগোপন করে রয়েছে। আমি মাদ্রাসায় থাকতে হুজুরদের কাছে শুনেছি, নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে গিয়ে আজান শুনতে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আবার আমাদের মাদ্রাসারই আর একজন শিক্ষক মাওলানা জাফর আহমদ দাবি করেছিলেন, চাঁদে কোন বিজ্ঞানী যায়নি। চাঁদে যাওয়ার যে দাবি করেছে আমেরিকার নাসা সেটি মূলত হলিউডের একটি সিনেমার শুটিংয়ের অংশ। আমাদের শিক্ষক মাওলানা আহমদ মায়মুন সাহেব উইলিয়াম শেক্সপিয়রকে সেক্সপিয়র বলতেন আর আমাদের শিখিয়েছিলেন, কাফেররা এতই খারাপ যে ওরা ওদের সন্তানের নামের মধ্যেও সেক্স শব্দটা ঢুকিয়ে দেয়! আমাদের মাদ্রাসার বিজ্ঞানী হুজুররা আমাদের শিখিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডে মাটির নিচে গোপন অনেক মাদ্রাসা রয়েছে যেখানে কোরআন-হাদিসের উপরে গভীর পাঠদান করা হয়। সেখানে কাফের আলেম তৈরি করা হয় যারা ইসলামের উপর গভীর জ্ঞান অর্জন করে কিন্তু ওদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিমদের মধ্যে ঢুকে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা। আমাদের মাদ্রাসার বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, ইহুদী-নাসারার দল বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন মাদ্রাসায় তাদের সন্তানদের মুসলিম পরিচয় দিয়ে, মুসলিম নাম দিয়ে ভর্তি করিয়ে আলেম বানায় এবং পরবর্তীতে সেই সব আলেমকে দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করায়। আমি এন্টারকোটিক হুজুরের অগুনতি বিজ্ঞানময় আবিষ্কারে অবাক হইনি। আমি এখনও হুজুরদের নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক থিওরি দেখে অবাক হই না। কারণ, মাদ্রাসা-বিজ্ঞানের গল্পের তো এখনও অনেক কিছু বাকি আছে। মাদ্রাসার ভেতরে যে সমস্ত বিজ্ঞানের চর্চা করা হয় এবং যে সমস্ত বিজ্ঞান মাদ্রাসার হুজুররা তাদের ছাত্রদের কর্ণকুহরে ঢেলে দেন তার উল্লেখযোগ্য অংশ তো এখনো আসেইনি। যদি আসে তাহলে কতই না কাণ্ড ঘটে যাবে! মানুষ কতইনা অবাক হবে! এ যে ধরুন আমি, আমিই মাদ্রাসায় আমার শিক্ষকদের মুখ থেকে যত বিজ্ঞান-বাণী শুনেছি তার তো মাত্র কয়েকটির উদাহরণ দিলাম, এমন কতশত বিজ্ঞানের উদাহরণ যে মাদ্রাসায় আছে তার কিছু তো আমিই ভুলে গেছি। হয়তো মনে পড়বে, তখন আবার লিখব। আবার অনেক কিছু এখনো মনে আছে, হয়তো লেখাটির কলেবর বৃদ্ধি পাবে বলে এখন লিখছি না। একদিন সব লিখব।
