মুফতি মাসুদ
আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
আমি আবদুল্লাহ আল মাসুদ। আমি একজন নির্বাসিত লেখক, ব্লগার এবং এক্স-মুসলিম। বাংলাদেশের একটি চরম রক্ষণশীল (অর্থোডক্স) ইসলামিক পরিবারে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বর্তমানে আমি মানবাধিকার, বিশেষ করে নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় কাজ করছি। আমি এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি, যেখানে কোনো নিষ্পাপ শিশুকে ‘মাদ্রাসা’ নামক নির্মম কারাগারে কয়েদ করে তার শৈশব ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হবে না। আমি এমন এক বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান এতটা প্রকট হবে না যে, বিত্তবানদের তৈরি করা মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা নিষ্ঠুর সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়বে। অন্ধকারের শেকল ভেঙে আলো ও মানবিকতার পথে হাঁটার এই যাত্রায় আপনাদের স্বাগতম। আমার পরিবারের বংশের সদস্যদের মধ্যে যারা পুরুষ, তাদের অধিকাংশই হয় মসজিদের ইমাম, নয়তো মাদ্রাসার শিক্ষক। আমার বাবা হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান ঢাকার হাজারীবাগের নবীপুর জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। ইমাম সাহেব আমার জন্মের পরপরই, অথবা বলা যায় জন্মের আগেই নিয়ত করেছিলেন যে, যদি তার কোন ছেলে হয় তবে তাকে তিনি আলেম বানাবেন। প্রথমে আমার দিদির জন্মের পর যখন আমার জন্ম হলো, তখন তিনি আমাকে কোলে করে তার নানাজী মাওলানা আব্দুল আজিজের কাছে নিয়ে গেলেন। বাবার নানাজী মাওলানা আব্দুল আজিজ ছিলেন গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রিন্সিপাল)। স্থানীয়ভাবে “বড় হুজুর” এবং “বুড়া হুজুর” নামে পরিচিত এই হুজুর পুরো পিরোজপুর জেলার মধ্যে অন্যতম খ্যাতনামা ইসলামী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। মাওলানা আব্দুল আজিজ আমার কপালে হাত রেখে দোয়া করে দিয়ে বাবাকে বললেন, “তোর পোলা তো দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছে। ওকে মাদ্রাসায় পড়াবি কিন্তু। ইনশাআল্লাহ, ও অনেক বড় আলেম হবে।”
ধার্মিক হওয়ার চেষ্টা
শিশুকাল থেকেই আমি যথেষ্ট বাঁদর টাইপের ছিলাম, তবে বাঁদরামি করলেও লোকের গাছের ফল ছেঁড়া, লোকের ক্ষতি করা, কারো সাথে মারামারি করা—এসব কিছু আমার অভ্যাসের মধ্যে ছিল না। স্কুলে যাওয়ার বয়স হলে বাবা আমাকে হাজারিবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিলেন। ক্লাস থ্রিতে যখন পড়ি, তখন স্কুলের হেডস্যার বাবাকে বললেন, “আপনার ছেলের ব্রেন অনেক ভালো, ওকে ফোরে ভর্তি না করে সরাসরি ফাইভে দিয়ে দিন।” বাবা তাই করলেন, ভর্তি হলাম ক্লাস ফাইভে। স্কুলের ছেলেদের উশৃঙ্খল আচরণ আমার পছন্দ ছিল না—তারা পড়ার টেবিলে লিখত, পড়ার টেবিলে লাফালাফি করত, বইগুলোকে অসম্মানের সাথে ছুঁড়ে ফেলত, একে অপরের বই ও খাতা চুরি করত। আমাদের বাসায় ছিল ইসলামিক পরিবেশ—ছোটকাল থেকে নবীর জীবনী, নবীর নামে নাত, রাসুল ও আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা—এসব শুনে শুনে বড় হয়েছি। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ বিভিন্ন ইসলামিক বক্তাদের ওয়াজ শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। শুধু বাংলাদেশের না, ভারত ও পাকিস্তানের হুজুরদের ওয়াজের ক্যাসেটও আমাদের বাসায় ছিল। ফায়াস উদ্দিন গোবর্দী নামের একজন পাকিস্তানি কণ্ঠশিল্পীর ইসলামিক সংগীত মাঝে মাঝে শুনতাম। মিশরের ক্বারী আব্দুল বাসেতের কোরআন তেলাওয়াত খুব বেশি শুনতাম। প্রতি বৃহস্পতিবার রাত এগারোটার সময় রেডিও জর্ডানে ক্বারী আব্দুল বাসেতের কোরআন তেলাওয়াত প্রচারিত হতো। বাবা সেগুলো শুনতেন এবং টেপ রেকর্ডারে রেকর্ড করতেন। সেই রেকর্ডিং পরবর্তীতে আমাকে শোনাতেন। সেই শিশুকালে এবং কিশোর বয়সে আল্লাহর নামে, নবীর নামে বানানো প্রশংসাগীতি বা ইসলামিক সংগীত শুনে কতবার যে চোখের জল ফেলেছি তার ঠিক নেই। ক্বারী আব্দুল বাসেতের সুমধুর কণ্ঠের কোরআন তেলাওয়াত শুনে কতবার চোখের জল ফেলেছি তারও ঠিক নেই।
আমার দাদা (গ্রান্ডফাদার) মৌলভী আব্দুল কাদেরও কোন একসময় ছিলেন মসজিদের ইমাম। একদিন বাংলা বইয়ের পাতায় একটি কবিতা পড়েছিলাম—”বল দেখি এই জগতে ধার্মিক কে হয়, সর্বজীবে দয়া যার, ধার্মিক সে হয়।” কবিতাটি পড়ার পর আমার দাদাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “ধার্মিক কাকে বলে?” দাদা আমাকে বললেন, “যারা আল্লাহকে ভালোবাসে এবং আল্লাহর হুকুম মতো জীবনযাপন করে, তারাই ধার্মিক মানুষ।” আমি তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, আমি ধার্মিক মানুষ হব। ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি, তখন হাজারীবাগ বটতলা (আনোয়ারুল উলুম) মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে সুশৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করতে দেখতাম—তারা সুশৃঙ্খলভাবে হেঁটে তাদের শিক্ষকের সাথে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করত। ধার্মিক হবার তীব্র বাসনা নিয়ে আমি নিজেই বাবাকে বললাম যে, আমি মাদ্রাসায় পড়তে চাই। বাবা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, ক্লাস ফাইভ পাশ করানোর পর আমাকে মাদ্রাসায় দেবেন। যখন ফাইভ শেষ হওয়ার আগেই আমি মাদ্রাসায় পড়ার আগ্রহ দেখালাম, তখন তিনি আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিলেন। ক্লাস ফাইভ পাশ করাও হলো না আমার।
মাদ্রাসার বাহিরে এবং অন্দরে
মাদ্রাসায় যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মাদ্রাসার ভিতরের যে দৃশ্য দেখলাম, তাতে আমি আঁতকে উঠলাম। বাহির থেকে মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে এবং শিক্ষকদেরকে যা দেখেছি, ভিতরে তা নয়—এ তো সম্পূর্ণ অন্য জগত, সেখানে বড় শিক্ষার্থী ছোট শিক্ষার্থীর সাথে, এবং শিক্ষক তার ছাত্রদের সাথে গুনাহের কাজ করে। তখন এটাকে গুনাহ বা পাপের কাজ মনে করতাম। মাদ্রাসায় যদি এমন গুনাহের কাজ চলে, তবে আমি কেন মাদ্রাসায় ভর্তি হলাম? তাছাড়া মাদ্রাসার হুজুররা বেধড়ক পেটাতেন—কখনো কারণে পেটাতেন, আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অকারণে; একজন ছাত্রের উপরে রাগ করার কারণে সকল ছাত্রকে পেটানো শুরু করতেন। যখন বেশি করে পেটানোর প্রয়োজন হতো, তখন হুজুররা দরজা-জানালা সব বন্ধ করতেন এবং ছাত্রদেরকে বলতেন জোরে জোরে কোরআন পড়তে। যখন সবাই জোরে জোরে কোরআন পাঠ করত, তখন যাকে পেটানো হচ্ছে তার কান্না বা চিৎকারের আওয়াজ বাহিরে যেত না। আমাদের মাদ্রাসার কমিটির সভাপতি ছিলেন সলিম হাজী। এই হাজী সাহেবের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, তিনি হিন্দি সিনেমা এবং হিন্দি গানের প্রচণ্ড ভক্ত ছিলেন। যদিও তার মুখভরা সাদা দাড়ি এবং গায়ে পাঞ্জাবি-পাজামা ছিল, কিন্তু ঘরের মধ্যে তিনি ভিসিআর দিয়ে হিন্দি সিনেমা দেখতেন। সলিম হাজীর ছেলেমেয়ে এবং নাতি-পুতিরা ওয়েস্টার্ন স্টাইলের পোশাক পরত। তাদের চলাফেরার মধ্যে ইসলামের কিছুই ছিল না। ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় দিবসে, স্বাধীনতা দিবসে, একুশে ফেব্রুয়ারিতে, পহেলা বৈশাখে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাসহ বাংলাদেশের প্রচলিত সকল উৎসবের দিনে সলিম হাজীর ছেলেমেয়েরা এবং নাতি-পুতিরা রংবেরঙের পোশাক এবং খোলামেলা পোশাক পরে রাস্তাঘাটে বের হতো। আমরা সেসব দেখে “নাউজুবিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়তাম।
সলিম হাজী মাদ্রাসায় এসে আমাদের শিক্ষকদের দ্বীনদারির পরীক্ষা নিতেন—কোন হুজুরের দাড়ি ছোট কিনা, কোন হুজুর ক্যাসেটে গান শোনে কিনা, কোন হুজুর মেসওয়াকের বদলে ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজে কিনা—এসব কিছু তিনি খুব কঠোরভাবে নজরদারি করতেন। কোন হুজুর বা ছাত্র ভিডিও গেমের দোকানে গিয়ে ভিডিও গেম খেলে কিনা, কেউ নাটক বা সিনেমা দেখে কিনা, সেসব নিয়েও কঠোরভাবে নজরদারি করতেন। সলিম হাজীর একটা নাতনি ছিল আমার সমবয়সী। একবার সলিম হাজীর বাড়িতে গিয়ে সেই নাতনির সাথে দেখা হলো। তার সাথে কথা বলে, তার ভাব দেখে মনে হলো সে হচ্ছে আমার প্রভু, আর আমি তার ক্রীতদাস। আমি মনে মনে অভিমান করে বহুবার আল্লাহকে বলেছি, “ইয়া মাবুদ, বেদ্বীন, ফাসেক এবং আলেমদের অসম্মানকারী ব্যক্তিদেরকে তুমি কেন মাদ্রাসার সভাপতি বানালে? তুমি কেন আলেম-ওলামাদের হাতে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দিলে না? দেশের কথা না হয় বাদই দিলাম, মাদ্রাসার ক্ষমতাই বা তাদের হাতে নেই কেন?”
আমি মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছি বহুবার। মাদ্রাসার অনৈতিক জীবন আমার ভালো লাগেনি, মাদ্রাসার শিক্ষকদের অত্যাচার আমার পছন্দ হয়নি, মাদ্রাসার শিক্ষকদের মুখে মুখে ইসলামের কথা আর রাতের বেলায় তাদের কর্ম আমার পছন্দ হয়নি। আমার সাথে করেছে কি করেনি সেটা বড় কথা নয়; বড় কথা হচ্ছে, তারা এই কাজটা করেছে। আর এই কাজটা যে তারা তখনও করত এবং এখনো করছে, তা প্রমাণ করার জন্য কোন গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা করার দরকার নেই—আপনি শুধু গুগলে “মাদ্রাসা” লিখে সার্চ করলেই বাকি সবকিছু আপনার সামনে এমনিতেই চলে আসবে। যারা মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যেত, তাদের পায়ে শেকল পরানো হতো। আমার শিক্ষক হাফেজ আবুল কাশেম কয়েকবার আমার বাবাকে অনুরোধ করেছিলেন যে, “মাসুদের পায়ে শিকল পরিয়ে দিই?” যেহেতু আমার বাবা স্থানীয় মসজিদের ইমাম ছিলেন এবং হাফেজ আবুল কাশেমের সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল, আর হাফেজ আবুল কাশেম আমার বাবার মসজিদে রমজান মাসে তারাবি পড়াতেন, সেহেতু বাবাকে তিনি যথেষ্ট শ্রদ্ধা করতেন। আমার পায়ে শেকল পরানোর ব্যাপারটা আমার বাবা মেনে নেননি। তিনি বলেছিলেন, “যতবার পালাবে ততবার ধরে নিয়ে আসব, ওরে কায়দামতো পেটাবেন, কিন্তু পায়ে শেকল পরানো যাবে না।” ভুলের সূচনা কি তবে ওখানেই? তখন আমার পায়ে শেকল পরানো সম্ভব হয়নি বলে কি আমাকে ইসলামের শৃঙ্খলে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি, কিংবা আমি শেকল পরিনি বলেই কি নিষ্ঠুরতা এবং বর্বরতার মরুকালচার ত্যাগ করতে পেরেছি?
মানুষ যখন উপায়ান্তর দেখে না, তখন সে তাই মেনে নেয় যা তাকে করানো হচ্ছে। আরবি একটা জনপ্রিয় কবিতার দুটি লাইন আছে এমন:
ولكن إذا ما حل كره فسامحت به النفس يوما كان للكره اذهبا
অর্থ: যখন অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু এসে পড়ে, আর মন সেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টাকে মেনে নেয়, তখন অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টা আর অনাকাঙ্ক্ষিত থাকে না। দাসেরা যখন উপায় দেখে না, তখন দাসত্বটাকেই নিয়তি মনে করে, দাসত্বকেই এনজয় করে। হয়তো আমার বেলায় তাই ঘটেছিল। আমি ইসলামকেই আমার নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছিলাম, যেহেতু ইসলামকে নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছিলাম, সুতরাং নিজের উপরে প্রেসার ক্রিয়েট করে আমি নিজের মধ্যে ঈমান স্থাপন করেছি। ঈমান স্থাপন করতে করতে একপর্যায়ে পাকিস্তানের শায়খ মাসুদ আজহারের বক্তব্য শোনা শুরু করলাম। তখন কওমি মাদ্রাসার অঙ্গনে মাসুদ আজহারের বক্তব্য খুব জনপ্রিয় ছিল। মাসুদ আজহারসহ পাকিস্তানি বিভিন্ন শায়খদের এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন শায়খদের উর্দু ভাষণের ক্যাসেট তখন খুব সহজেই পাওয়া যেত। সাধারণ মানুষের জন্য না, কিন্তু মাদ্রাসার হুজুরদের জন্য এসব ক্যাসেট সহজলভ্য ছিল।
বাইতুস সালাম মাদ্রাসায়
জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়—উত্তরার বায়তুল সালাম মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া। হাজারিবাগ বটতলা মাদ্রাসা থেকে আনুষ্ঠানিকভবে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে আমি উত্তরার এই মাদ্রাসায় ভর্তি হই। মাদ্রাসা পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো জটিল বা নেতিবাচক কারণ ছিল না। এর মূল এবং একমাত্র কারণ ছিল—একটি তুলনামূলক সুস্থ পরিবেশ এবং ভালো মানের পড়াশোনা নিশ্চিত করা। আমি জেনেছিলাম যে, অন্যান্য মাদ্রাসার তুলনায় বায়তুল সালাম মাদ্রাসার পড়াশোনার মান বেশ উন্নত এবং ভেতরের পরিবেশও অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও গোছানো। মূলত সেই উন্নত পরিবেশের আশাতেই সেখানে আমার নতুন করে পথচলা শুরু হয়। বায়তুল সালাম মাদ্রাসায় যাওয়ার পেছনে আমার আরও একটি বড় কারণ ছিল—একটি সুস্থ পরিবেশের প্রত্যাশা। আমার মনে হয়েছিল, সেখানে গেলে হয়তো উন্নত নৈতিকতার অধিকারী, চরিত্রবান শিক্ষক ও সহপাঠীদের সান্নিধ্য পাব। হাজারিবাগ মাদ্রাসার অভিজ্ঞতা আমার জন্য ছিল এক নিদারুণ দুঃস্বপ্ন। সেখানে আমি যে ধরনের শিক্ষক ও সহপাঠী পেয়েছিলাম, তাদের অধিকাংশই ছিল ধর্ষক। হিংসা, বিদ্বেষ আর নোংরামির যেন কোনো শেষ ছিল না সেখানে। সেই বিষাক্ত পরিবেশ থেকে বাঁচতেই বুকভরা আশা নিয়ে নতুন মাদ্রাসায় ছুটেছিলাম। কিন্তু চরম হতাশা আর আফসোসের বিষয় হলো, বায়তুল সালামে ভর্তি হওয়ার পর আমার সেই ভুল ভাঙল। আমি দেখলাম, কেবল স্থানেরই পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ভেতরের অন্ধকারটা বদলায়নি। হাজারিবাগ মাদ্রাসায় আমি যে ভয়াবহ রূপ দেখেছি, এখানেও ঠিক সেই একই বিভীষিকার পুনরাবৃত্তি ঘটলো।
যখন আমি ঢাকার বাইতুস সালাম মাদরাসায় হেদায়া জামাতে পড়ি, তখন ঢাকার আল মারকাজুল ইসলামের পরিচালক মুফতি শহিদুল ইসলামের সাথে দেখা হয়। কি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব (তখন মনে হয়েছিল)! কি অপূর্ব তাঁর বাচনভঙ্গি! মুফতি শহিদুল ইসলামের সাথে সৌদি আরবের খুব ভালো যোগাযোগ ছিল। তিনি “আল মারকাজুল ইসলামী” নামে একটা ইসলামী এনজিও তৈরি করেছিলেন সরাসরি সৌদি ফান্ডিংয়ে। আল মারকাজুল ইসলামীতে সৌদি আরবের স্কুলের পাঠ্যপুস্তক পাওয়া যেত। সেখানে গিয়ে সৌদির সেসব আরবি বই আমি নিয়ে আসতাম বিনামূল্যে। সেসব বইয়ের প্রিন্টিং, ভেতরের ছবি—এসব কিছু সত্যিই দারুণ ছিল, পৃষ্ঠার মান ছিল অসম্ভব রকমের ভালো। সেসব বই পড়ে পড়ে আরবি ভাষায় নিজেকে আরও অনেক দক্ষ করে তুললাম।
সময় গড়িয়ে যায়, বুড়িগঙ্গার জলে জোয়ার-ভাটা চলতে থাকে। পড়াশোনা শেষ হলো, এবার খেদমতের পালা। মাদ্রাসার হুজুরদের মধ্যে চাকরিকে চাকরি বলার প্রচলন নেই। তারা চাকরিকে বলে খেদমত। এটা হচ্ছে দ্বীনের তথা ইসলামের খেদমত। প্রথমে অল্প দিনের জন্য দুটি মাদ্রাসায় খেদমত করলাম, তারপর মসজিদের খেদমতে, অর্থাৎ ইমামতির চাকরিতে নাম লেখালাম। এরপর মসজিদ এবং মাদ্রাসা দুটোরই দায়িত্ব পেলাম—মসজিদের ইমাম এবং মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। কর্মস্থল: ঢাকার আল আমিন জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স।
মানুষ নাকি মুসলমান?
সমস্যা আমাকে তাড়িয়ে বেরিয়েছে সেই কিশোর বয়স থেকেই। আমি যা, যেরকম মানুষ নই, তেমনটাই আমার বলতে হচ্ছে। আমি অমানবিক নই, অথচ অমানবিকতার পক্ষে আমার বলতে হচ্ছে। আমি হিংসুক নই, অথচ হিংসার পক্ষে আমার কথা বলতে হচ্ছে। আমি একটা বিয়ে করে এক বউ নিয়ে সন্তুষ্ট, অথচ চার বিয়ে হালাল—এ ব্যাপারে আমার ফতোয়া দিতে হচ্ছে। পুরুষের মুখের কথায় তালাক হয়ে যাবে একজন নারীর, এরপর হালালা ছাড়া সেই নারী আর তার পথে ফিরতে পারবে না—এমনটা তো আমি বিশ্বাস করি না, কিন্তু এমন ফতোয়াই আমার দিতে হচ্ছিল। ভেতরে ভেতরে আমি একজন মানবিক, অসাম্প্রদায়িক, নারী-পুরুষের বৈষম্যবিহীন, সাম্যবাদী মানুষ, অথচ প্রতিনিয়ত আমার কথা বলতে হচ্ছে মানবিকতার বিরুদ্ধে, সাম্যের বিরুদ্ধে এবং সম্প্রীতির বিরুদ্ধে। এভাবে কতদিন চলা যায়? যদি আমি বলি যে, আমি এই অসাম্য, এই হিংসা, এই বিভেদ, এই ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করি তবে আমাকে আমাকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে খুন কড়া হবে। ইনফ্যাক্ট, হুজুরদের কাছে কয়েকবারই নাস্তিক আখ্যা পাওয়ার পরে কোনরকমে প্রাণ বাঁচিয়েছি। একবার মসজিদের জুমার ভাষণে আমি বলেছিলাম, “যারা নিজের স্ত্রীকে পেটায়, তারা ভালো মুসলমান তো না-ই, বরং তারা কাপুরুষ।” ফলাফল হয়েছিল খুব খারাপ—স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আব্দুর রহিম আমার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন শুরু করলেন, আমাকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দেয়া শুরু করলেন। পার্শ্ববর্তী কয়েক মসজিদের ইমামর আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়া শুরু করলেন। অবশ্য একজন বয়স্ক ইমাম আমার পক্ষে থাকার কারণে সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেছি। আরেকবার হুজুরদের মজলিসে ভুলক্রমে বলে ফেলেছিলাম, “অহিংসা পরম ধর্ম।” এরপর আর যায় কোথায়—সব হুজুররা এমনভাবে আমাকে চেপে ধরল যে, শেষ পর্যন্ত আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে তো হলই, সাথে এ কথারও অঙ্গীকার করতে হলো যে, ভবিষ্যতে এমন ‘কুফুরি কথার’ কথার পুনরাবৃত্তি করব না, এবং আল্লাহর কাছে দুই রাকাত তওবার নামাজ পড়ে ভালো করে মাফ চেয়ে নেব। “অহিংসা পরম ধর্ম” কথাটা একজন কাফেরের, আর সেই কাফেরের নাম গৌতম বুদ্ধ। সুতরাং কাফেরদের নাম বা কাফেরদের কোন উক্তি যদি কোন মুসলমান উদ্ধৃত করে, তবে সে আর মুসলমান থাকে না—এটাই ইসলাম। বারবার মনের মধ্যে দ্বন্দ চলতে থাকে আমার – কি হব আমি, মানুষ নাকি মুসলমান?
মানসিক যন্ত্রণা
উৎপীড়ন কাঁহাতক সহ্য করা যায়, বলুন তো? আপনি আমাকে পেটাবেন, এটাও মেনে নেয়া যায়; আপনি আমার সাথে যুদ্ধ করবেন, আমি ফাইট ব্যাক দেব, এটাও মেনে নেয়া যায়। শত্রুর সাথে যুদ্ধ করা যায়, কিন্তু নিজের মনের সাথে, নিজের বিবেকের সাথে কতক্ষণ? আমি যে অমানবিকতায় বিশ্বাস করি না, সেই অমানবিকতার পক্ষেই কেন বলতে বাধ্য হলাম? আমি যে হিংসায় বিশ্বাস করি না, সেই হিংসার পক্ষেই কেন বলতে বাধ্য হলাম? কেন আমি এমন কথা বলতে বাধ্য হয়েছি, যে কথার বা বক্তব্যের ফায়দা নিচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাহিত্যিক, চায়ের দোকানদার, মুদি দোকানদারসহ সর্বস্তরের বেনামাজি মুসলমানরা? আমি দেখেছি, বাংলাদেশের যেসব মসজিদের ইমামরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে, তারা নিজেরা কিন্তু তাদের হিন্দুবিদ্বেষী বক্তব্য থেকে তেমন কোন সুফল পায়নি। হুজুররা হিন্দুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে, আর আওয়ামী লীগের নেতারা, বিএনপির নেতারা, জামায়াতের নেতারা কিংবা কোন ব্যবসায়ী নেতা সেই বিদ্বেষের সুফল তুলেছে। তারা হিন্দুদেরকে ইসলাম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করে দেশছাড়া করেছে, এরপর হিন্দুদের জমিজমা লুট করেছে। কই, হুজুররা তো সেই লুটের ভাগ পায়নি! তাহলে গনিমতের মালের ব্যাপারটা বাংলাদেশে এখনো থাকা সত্ত্বেও সেই গনিমতের মালের ভাগ হুজুররা পাচ্ছে না। কিছু কিছু হুজুর অবশ্য পাচ্ছে না তা না। যারা একটু শীর্ষস্থানীয় হুজুর, যে হুজুররা ৫০১ নম্বর রুমে ঘন ঘন যাতায়াত করে, তারা গনিমতের মালের ভাগ পাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ হুজুরদের গনিমতের মালের ভাগ কই? এবার আপনি বলবেন, আমি কি তাহলে গনিমতের মালে ভাগ না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হলাম? এর উত্তর হচ্ছে, কখনোই না। খুব শৈশবকাল থেকেই আমি যে পড়েছিলাম, “সর্বজীবে দয়া যার, ধার্মিক সে হয়,” সেটি আমাকে সারা জীবন—কিশোর বয়সে, যৌবনের শুরুতে এবং আজকের দিন পর্যন্ত—পথ দেখিয়ে চলেছে। সর্বজীবে দয়া থাকলে যদি তাকে ধার্মিক বলা হয়, তবে আমি অবশ্যই ধার্মিক। এমনকি ঈশ্বরে বিশ্বাস না থাকা সত্ত্বেও আমি ধার্মিক।
আমার বন্ধু যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ছিলেন, তাদের মধ্যে যারা একটু চরিত্রবান ছিল তারা আমাকে বলেছে যে, এত নীতিনৈতিকতা ভালো না। ইসলাম কি জিনিস তা আমরাও জানি, কিন্তু অফিসে যেরকম সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মানুষ চাকরি করে এবং বেতন পায়, মসজিদে নামাজ পড়ানো এবং মাদ্রাসায় শিক্ষাদান করাকেও সেরকম চাকরি মনে করে করতে অসুবিধা কি? একটু ঘৃণার কথা বললে সমস্যা কি? নিজে না হয় অপরাধটা না করলাম! কিন্তু এটা কি করে সম্ভব? যখন একজন মুসল্লি এসে আমাকে বলল, “হুজুর, আমার বউ আগের মতো সবল নেই, এখন আমি আর একটা বিয়ে করতে চাইলে সেটা কি জায়েজ আছে?” আমি উত্তর দিয়েছিলাম, “এটা আপনার জন্য জায়েজ, তবে না করলেই ভালো। দেখুন, ভাবিকে চিকিৎসা করে সুস্থ করা যায় কিনা।” আমি এমন একটা উত্তর দিয়েছিলাম, যেটি আমারই মনঃপুত হয়নি। কারণ, একই সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এক নারীও এসেছিলেন। আমি তো সেই নারীকে তো বলতে পারিনি যে, “আপনি আরেকটা বিয়ে করতে পারেন বা ইসলাম আপনাকে দুইটা পতি রাখার পারমিশন দিয়েছে।” ইসলাম নারীকে আরেকটা বিয়ে করার পারমিশন দেয় না, কিন্তু পুরুষকে দিয়েছে। আরেকটা কেন, আরো তিনটা, অর্থাৎ মোট চারটা বিয়ে করার পারমিশন দিয়েছে। আমি যদি ইসলামে বিশ্বাস করি, কিংবা ইসলামের পক্ষে কথা বলি, তাহলে আমার পক্ষে ভালো মানুষ হওয়া সম্ভব কীভাবে? বলুন, কোন উপায় আছে?
আল্লাহর দেশে যাত্রা

অবশেষে হজ্ব করলাম, 2016 সালে। ইসলামে বিশ্বাস নেই, তবুও হজ্ব করলাম। যখন হজ্ব করেছি, তখনও আমি মসজিদের ইমাম। মক্কার কাবাঘর, যেটা দেখলেই নাকি মুসলমানদের ঈমানের জোশ আসে। কই, আমার তো ঈমানে জোশ আসেনি! লোকে বলে, ওখানে গেলে নাকি বিশ্বাস এবং সততা দিয়ে অন্তর পূর্ণ হয়ে যায়। কই, কাবাঘরে গিয়ে তো আমি দেখেছি, মুসলমানরা সেখানেও পাপ করেছে, মুসলমানরা সেখানেও গালিগালাজ করেছে, মুসলমানরা সেখানেও সিগারেট খেয়েছে, মুসলমানরা সেখানেও অন্যের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। আর হজ্ব থেকে ফেরার পরে প্রায় সব মুসলমানরাই আগের চেয়েও অনেক অনেক গুণ বেশি ভয়ংকর মানুষ হয়েছে। আগে সে ছিল কেবলমাত্র বেনামাজি মুসলমান, আর এখন হয়েছে হাজী মুসলমান। বেনামাজি মুসলমানের চেয়ে হাজী মুসলমান অনেক ভয়ংকর। হাজী মুসলমানের একটা মুখোশ তৈরি হয়েছে – মাদানি মুখোশ। এই মুখোশ খুব ভয়ঙ্কর! এই মুখোশ জোহরান ‘মাদানি’ এবং মীরা ‘মাদানির’ মতোই ভয়ঙ্কর!
হজ্ব করেছি যদিও ২০১৬ সালে, কিন্তু ফেসবুকে ছদ্মনামে লেখা শুরু করেছি ২০১৪ সাল থেকেই। আমার দুটো ফেসবুক আইডি ছিল—একটি রিয়েল আইডি, আরেকটি ফেক আইডি। রিয়েল আইডিতে আমি একজন ইমাম, যিনি পোস্টে ইসলাম আর মানবতা দুটোকে ঠেলেঠুলে কাছাকাছি নেয়ার চেষ্টা করত; আর ফেক আইডিতে সে ইসলামের প্রকৃত মুখ লোকদের কাছে তুলে ধরত। হজ্ব করার পরে একবার ভারত সফর করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ইচ্ছা ছিল আস্তে আস্তে অন্যান্য দেশ ভ্রমণেও বের হব। ছয় মাসের জন্য ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা পেয়ে গেলাম। সে সময়ে আসাদ নূরসহ কয়েকজন বাংলাদেশী এক্স-মুসলিমের সাথে আমার পরিচিতি তৈরি হলো। আসাদ নূরকে বিশ্বাস করে বললাম যে, আমি আসলে একটা মসজিদের ইমাম, এবং ভিডিও কলে আসাদ নূর প্রথমে আমার চেহারা দেখেছে। যদিও আমার আতঙ্ক ছিল যে, কোনভাবে আমার ছবি কিংবা ভিডিও নিয়ে বা কল রেকর্ড করে যদি আসাদ নূর অনলাইনে ছেড়ে দেয় তবে আমি বিপদে পড়ব। তবুও সাহস করে কথা বলেছি। আসাদ নূরের মাধ্যমে মুফাসসিল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সাথে পরিচিত হলাম। তখন আমি খ্রিস্ট ধর্মের প্রতি কিছুটা আসক্ত ছিলাম। এটি ২০১৭ সালের কথা। ২০১২ সালে একবার বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিও খুব আসক্তি তৈরি হয়েছিল। অবশ্য সত্য কথা এই যে, বুদ্ধকে আমি এখনো খুব পছন্দ করি। যাই হোক, মুফাসসিল ইসলাম নামের ভদ্রলোক আমার সাথে ভিডিও ফোনে কথা বলে সে ভিডিওটা রেকর্ড করলেন এবং তিনি সেই ভিডিও তার ইউটিউব চ্যানেলে ছেড়ে দিলেন। আগে থেকেই যেসব ইমাম এবং ইসলামিক জিহাদিরা আমার প্রতি সন্দেহ করা শুরু করেছিল, তারা সেই ভিডিও দেখে নিশ্চিত হয়ে গেল যে, মুফতি মাসুদ আসলেই ইসলাম ত্যাগ করেছে এবং নাস্তিকদের সাথে গোপনে যোগাযোগ করছে। হুমকি পেতে শুরু করলাম। হুমকির সাথে সাথে আল্টিমেটাম—তিন দিনের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে এবং প্রকাশ্যে ফেসবুক আইডিতে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা তো দিতে হবেই, এমনকি জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে শায়খ মামুনুল হকের হাতে বায়াত করে, তওবা করে, কালেমা পড়ে পুনরায় মুসলমান হতে হবে। আমি জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় গেলাম, শায়খ মামুনুল হকের হাতে তওবা করিনি তবে এমনি দেখা করলাম, আর খুব সামান্য সময় কথা বললাম। লোকটাকে দেখলেই পিশাচ মনে হয়—কথার মধ্যে রুক্ষতা, চেহারার মধ্যে রুক্ষতা, চাহনির মধ্যে হিংস্রতা।
হুমকি এবং দেশত্যাগ

তিনদিনের আল্টিমেটাম পেয়ে, নিজের পরিচয় না দিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন পুলিশের এসআইয়ের সাথে কথা বললাম। তাকে জানালাম যে, আমি কোন একটা মসজিদের ইমাম, কিন্তু ইসলামে বিশ্বাস করি না বলে জিহাদিরা আমাকে মেরে ফেলতে চাইছে। এখন কোনভাবে তিনি আমাকে সাহায্য করতে পারেন কিনা? পুলিশের সেই মুসলমান এসআই আমাকে সাহায্য করার বদলে আমাকেই অ্যারেস্ট করার হুমকি দিয়ে বললেন যে, আমি যে সিম এবং ফোন থেকে কল দিয়েছি, তার লোকেশনের সূত্র ধরে তিনি আমাকে খুঁজে বের করবেন এবং অ্যারেস্ট করবেন। আমি বুঝলাম যে, এই দেশটা আমার না। এই দেশটা ইসলামিক জল্লাদদের।
খুব তড়িঘড়ি করে আমার এক ভক্ত মুসল্লিকে দিয়ে কলকাতার এয়ার টিকেট করলাম। আমার এই ভক্ত নভো এয়ারে চাকরি করতেন। ২০১৭ সালের আগস্টের আট তারিখে ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে কলকাতা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে প্লেনে উঠলাম। জিহাদীদের একটু খোঁচানোর জন্য প্লেনে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে ফেসবুকে পোস্ট করলাম ইসলাম ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে। একজন ইমামের ইসলাম ত্যাগের ঘটনা দ্রুত বাংলাদেশ জুড়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল। মাওলানা মামুনুল হক আমাকে নিয়ে পোস্ট করলেন। মুফতি মাসুদ হাতছাড়া হয়ে গেছে দেখে মামুনুল হকসহ অন্যান্য জিহাদি গোষ্ঠীগুলো ক্ষোভে ফেটে পড়ল।এরপরে আর পিছু হটার কি কোনো উপায় আছে? কেন বাংলাদেশ ছাড়লাম, কেন বউ-পোলাপানকে বিপদে ফেলে পালালাম—এমন প্রশ্ন অনেকেই করেছেন, এমনকি আমার বন্ধুদের মধ্যে, নাস্তিকদের মধ্যেও কেউ কেউ এমন প্রশ্ন করেছেন। এসব প্রশ্নকারীর মুখে ঝামা ঘষে দেয়ার জন্য কিছু কথা বলার দরকার ছিল।
ইমামদের দৈনন্দিন জীবন যেমন হয়
সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে ছয় দিনই পোলাও-বিরিয়ানি-কোর্মার দাওয়াত—ইমামদের জীবন এমনই হয়? সারা বছরজুড়ে হাদিয়ার উৎসব লেগেই থাকে। মুসল্লিরা বা ভক্তরা বিভিন্ন সময়ে টাকাপয়সা এবং বিভিন্ন বস্তু হাদিয়া দেয়। পোশাক-আশাক, জুতা-স্যান্ডেল, টুপি, চশমা, আতর, সুরমা, জায়নামাজ, জুব্বা, ঘরের আসবাবপত্র, মুদি দোকানের জিনিসপত্র, ফার্নিচার—এমন বহু রকমের হাদিয়া হুজুরদের জন্য বরাদ্দ থাকে। তাছাড়া রাস্তায় চলাফেরার সময়ে লোকেদের সালামের বৃষ্টি চলতে থাকে। হুজুরদের সবাই সালাম দেয়, হুজুরদের কাছে সবাই দোয়া চাইতে আসে। আপনাদের কি মনে হয়, আমি যখন মসজিদের ইমাম ছিলাম, তখন কি আমি এসব কিছু ভোগ করিনি? বেতনের টাকার চেয়ে তিনগুণ ছিল আমার হাদিয়ার টাকা। আর আশপাশের অন্যান্য ইমামদের চেয়ে আমাকে লোকজন একটু বেশি পছন্দ করত, কারণ লোকেদের সাথে আমার আচরণ ভালো ছিল। আরেকটা কারণ হচ্ছে, ইসলামিক জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্ব সম্পর্কে আমি অন্য ইমামদের চেয়ে বেশি ধারণা রাখতাম।
নির্বাসিত জীবন:
ভারতে থাকাকালে প্রথমে বুঝতে পারিনি, কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম যে, আমি ভুল জায়গায় চলে এসেছি। ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যে ইসলামপ্রেম বাংলাদেশের মুসলমানদের ইসলামপ্রেমের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অন্তত দুইশোগুণ বেশি “মুসলমান-বান্ধব”। মমতা ব্যানার্জির দলের লোকেরা হিন্দু হোক কিংবা মুসলমান, আমি ইসলামবিরোধী ব্লগার এমনটা জানতে পেরে সবসময় আমার সাথে ওরা দুর্ব্যবহার করেছে। সবসময় সুযোগ খুঁজেছে, যেকোনোভাবে আমাকে হয়রানি করা, অত্যাচার করা, কিংবা পুলিশ দিয়ে অ্যারেস্ট করা সম্ভব কিনা। ২০২০ সালে আমার বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ভারত সরকারের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আমার ভিসা এক্সটেনশন করে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আমি যতবারই আবেদন করেছি, ততবারই তারা জানিয়েছে যে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট করাতে পারলে তবেই তারা আমাকে ভিসা এক্সটেনশন দিতে পারবে। যেহেতু আমি প্রায় তিন বছর ভিসা এক্সটেনশন সুবিধা পেয়েছি, সুতরাং পাসপোর্ট রিনিউ করতে পারলে আবারও ভিসা এক্সটেনশন পাব, এটা জানতাম। কিন্তু আক্ষেপ এই যে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয়রা হিন্দুদের পক্ষে, সেকুলারদের পক্ষের সরকার বলে মনে করলেও তিনি আসলে হিন্দু কিংবা প্রগতিশীল বা সেকুলারদের পক্ষে ছিলেন না। অথবা পক্ষে থাকলেও তাদের জন্য তেমন কিছুই করতে পারেননি। এজন্যই আমি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার পাসপোর্ট রিনিউ করাতে পারিনি। কলকাতার বাংলাদেশ হাইকমিশনে বহুবার গিয়েছি, কিন্তু আমাকে তাড়িয়ে দেয় হয়েছে। হাইকমিশনের হিজাবি নারীটির বক্তব্য ছিল যে, “আপনি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইলে আমরা আপনাকে পারমিশন দিতে পারব, কিন্তু আমরা এখানে পাসপোর্ট করিয়ে দিতে পারব না।” কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও যোগাযোগ করেছি, কিন্তু ফলাফল শূন্য। ইসলাম যেমন আমার জীবনকে মানবিকতাশূন্য করেছিল, ঠিক তেমনি ইসলামহীনতাও আমাকে কোনো সুখের সন্ধান দেয়নি। বরং ধর্মহীনতা আমাকে এক চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মাদ্রাসার দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সহপাঠীদের সাথে ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতিগুলো চোখে ভাসে। সেখানে আমার সব সহপাঠী যে ধর্ষক ছিল, তা নয়। যারা এই ভয়ংকর অপরাধের বাইরে ছিল, কেবল তাদের সাথেই আমার চমৎকার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল।
আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধিতে, যারা ধর্ষক ছিল না—তারা পেশায় মসজিদের ইমাম বা মাদ্রাসার শিক্ষক হলেও—আমার চোখে তারা ‘মুসলমান’ নয়। কারণ, মাদ্রাসার জীবনে আমি এমন কোনো ‘মুসলমান হুজুর’ পাইনি, যে সত্যিকারের ভালো মানুষ। বিপরীতে, মাদ্রাসায় আমি যে গুটি কয়েক ভালো মানুষের দেখা পেয়েছি, আমার সংজ্ঞায় তারা কেউই ‘মুসলমান’ নয়।
পাসপোর্ট এবং ভিসার জটিলতা
আমার পাসপোর্ট রিনিউ করা যে সম্ভব এবং কীভাবে সম্ভব, তা আমাকে জানিয়েছিলেন একজন, 2024 সালে। কিন্তু এবারের চেষ্টায়ও ব্যর্থ হলাম। তারপর শাহাদাত রাসেল কোন একভাবে চেষ্টা করলেন, পাসপোর্ট রিনিউ হয়ে গেল। এজন্য শাহাদাত রাসেলের কাছে আমার আজীবনের কৃতজ্ঞতা রয়েছে। রিনিউ করা পাসপোর্ট নিয়ে ভারত সরকারের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে পুনরায় যোগাযোগ করলাম, জানালাম যে পাসপোর্ট হয়ে গেছে এবং আমাকে দয়া করে ভিসা এক্সটেনশন করে দিন। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে তখন ভারতের সম্পর্ক চূড়ান্ত তলানিতে থাকার কারণে এবং ইমিগ্রেশন অফিসের অফিসার পরিবর্তন হওয়ার কারণে আমাকে প্রত্যাখ্যান করা হলো।
ভিসা এক্সটেনশন না পাওয়ার কারণে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আমার উপরে ঘুরছিল তখনও। আমি কলকাতার কোথাও ঘর ভাড়া না পেয়ে গয়েশপুরে আমার এক বন্ধুর বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। আমার এই বন্ধুটি আমার জন্য বারবার ঝুঁকি নিয়েছেন, আমার জন্য থানার লকআপে পর্যন্ত তাঁকে থাকতে হয়েছে। 2025 সালের মাঝামাঝি সময়ে গয়েশপুরের এক তৃণমূলী গুন্ডা আমার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো শুরু করল যে, এই লোকটা হচ্ছে বাংলাদেশি জঙ্গি। আমি নাকি ঘরের মধ্যে বোমা বানাতাম – তৃণমূলী গুন্ডাটার দাবি! লোকটা এমনভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে যে, জবাব দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। লোকটা কখনো আমার মুখোমুখি হতো না, আমার সাথে কথা বলতে চাইত না, আমাকে দেখলে এড়িয়ে চলে যেত। খুব সম্ভবত তৃণমূল কংগ্রেস নামক জিহাদি দল থেকে তাকে কোন এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছিল। তৃণমূলী গুন্ডাটা যখন ঘরের মধ্যে ঢুকে আমাকে আমার বন্ধুর সামনেই খুন করার হুমকি দিচ্ছিল এবং জিহাদিদের মতোই চিৎকার করছিল তখন আমি গয়েশপুর ফাঁড়িতে গেলাম, আমার বাড়ির মালিককে অর্থাৎ আমার বন্ধুকে সাথে নিয়ে। আমরা গেছি এ কথা জানানোর জন্য যে, আমি তার বাড়িতে ভাড়া থাকি। আমি গয়েশপুর ফাঁড়িতে যাওয়ার পর থেকেই আলম নামের এক ডিআইবির (ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ) অফিসার আমার বিরুদ্ধে খুব তৎপরতা দেখানো শুরু করল। তার তৎপরতা দেখে মনে হয়েছে, সে আমার বিষয়ে ভালো করে জানত এবং আমাকে ফাঁসানোর জন্য পুরো পরিকল্পনা তার আগে থেকেই করা ছিল। অনেক পরে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি যে, এই পরিকল্পনা আলমের একার না—আলমের পেছনে ছিল বাংলাদেশের ইউনুস-জামাতি গং এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নামক দলটি। যখন আমাকে গ্রেফতার করা হয়, সেই সময় বাংলাদেশের হিন্দুদের উপরে ইউনুস বাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমি প্রচণ্ড শক্তভাবে লেখালেখি করতাম, ইউটিউব ভিডিওতে এবং লাইভে ইউনুস ও জামাতি সন্ত্রাসবাদীদের তীব্র সমালোচনা করতাম। সুতরাং এটা খুবই স্বাভাবিক যে, ইউনুস-জামাতি গ্যাং তাদের প্রিয় “ইসলামিক দিদি” মমতা ব্যানার্জির সাথে গোপনে যোগাযোগ করেছে এবং আমাকে আটক করার বিরাট পরিকল্পনা করেছে, যেহেতু তাদের কাছে এই তথ্য ছিল যে, ভারতে আমার বৈধ স্ট্যাটাস নেই।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে ভারতে আমার বৈধ স্ট্যাটাস বা ভিসা নেই—এ কথাটা মমতা ব্যানার্জির দলের লোকেরা আগেই কেন জানল না? এর উত্তর অনেকগুলো: ১. ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে, আর কেন্দ্রীয় সরকার মমতার ইসলামপন্থী রাজ্য সরকারের সাথে সব তথ্য শেয়ার করত না।
২. আমার ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে আমি ভারতে আছি নাকি অন্য কোথাও আছি, বা থাকলেও আমার যে ভিসা নেই, এ কথাটা আমি সেভাবে কোথাও লিখিনি, যে কারণে ইউনুস-মমতা গ্যাং আমার বিরুদ্ধে সেভাবে আগেভাগে নামেনি।
৩. যেহেতু ইউনুস-মমতা গ্যাংয়ের ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের আমি প্রচণ্ড রকম নিন্দা করতাম, এবং সামনে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন, সেহেতু নির্বাচনের আগে যেকোনো মূল্যে মুফতি মাসুদকে আটক করতেই হবে, এমন একটা প্রতিজ্ঞা করেছিল ইউনুস-মমতা গ্যাং।
গয়েশপুর পুলিশ ফাঁড়িতে
গয়েশপুর ফাঁড়ি আমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল, এ কথা ঠিক, কিন্তু আবার ছেড়েও দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ অফিসাররা তখন হিন্দু-মুসলিমে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। হিন্দু অফিসাররা আমার পক্ষে থাকলেও মুসলিম অফিসাররা আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু মমতা ব্যানার্জির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের চেয়ে ইসলাম এবং ইসলামিক জঙ্গিবাদীরা বেশি পছন্দের, সেহেতু বেশিরভাগ জনমতের তোয়াক্কা না করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে আমাকে কল্যাণী থানা অ্যারেস্ট করল। আমার লাস্ট ভিসা অ্যাপ্লিকেশন “আন্ডার প্রসেস” থাকা সত্ত্বেও, আমাকে যাতে ভিসা দিতে না পারে ভারত সরকার, সেজন্যই তড়িঘড়ি করে আমাকে অ্যারেস্ট করা হয়েছিল।
সর্বশেষ আপডেট
দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস কল্যাণী কারাগারে অবর্ণনীয় মানসিক নির্যাতনের মধ্যে থাকার পর, কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারক তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশে আমি কন্ডিশনাল বেইল পেয়েছি। এখনো ভারতে থাকার জন্য আমার বৈধ কোন ভিসা নেই। ভবিষ্যতে আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে, তার কিছুই আমার জানা নেই। যদি ভিসা আমি না পাই, এবং যদি বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকে, তবে আমার পুনরায় কারাবরণ করার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। অন্য কোন ধারা দিয়ে আমাকে ফাঁসাতে পারেনি আলম ও শাহবাজ গং। শুধুমাত্র ফরেনার্স অ্যাক্টেই আমার বিরুদ্ধে একটা মামলা হয়েছে। কল্যাণী থানায় অনেক হিন্দু পুলিশ ছিল, কিন্তু বাছাই করে মুসলমান পুলিশ অফিসার মোহাম্মদ শাহবাজকেই আমার কেসের আইও বা ইনভেস্টিগেশন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছিল। শুধুমাত্র ফরেনার্স অ্যাক্টেই আমার বিরুদ্ধে একটা মামলা হয়েছে, কিন্তু ইউনুস-মমতা গ্যাংয়ের রোষানলে পড়ে এই সামান্য একটা মামলাতে আমার উপর দিয়ে যা গেছে এবং চলছে, তা আপনারা কেউ ভাবতে পারবেন না! বাংলাদেশের মডারেট মুসলমান ও হুজুর মুসলমান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলী মুসলমান এবং তৃণমূলী ইসলামপন্থী হিন্দু গুন্ডা—এই সকল চক্র মিলেও যে কাজটা আমাকে দিয়ে করাতে পারেনি, তা হচ্ছে ইসলাম নামক সন্ত্রাসের প্রতি আত্মসমর্পণ। আমি কখনোই ইসলাম নামক সন্ত্রাসের কাছে আত্মসমর্পণ করব না, আমি কখনোই জামাত-মমতা জোটের কাছে আত্মসমর্পণ করব না।
মানুষের মুক্তি, সাম্য, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ধর্মনিরপেক্ষতার যে আদর্শ আমি লালন করি সেই আদর্শ থেকে কেউ কখনো আমাকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আমি আমার আদর্শের পক্ষে সর্বোচ্চ পরীক্ষা এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে ফেলেছি, এরপর আর কিছু বাকি থাকে না।
1 Comment
Khub e korun kahini.. valo thakbe. Love you from Basirhat, West Bengal.